‘নাইক্ষ্যংছড়িতে পূর্বের তুলনায় ম্যালেরিয়া নাই বললেই চলে’

pic-1

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্রগ্রামের লৌহ মানব ,প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি’র নিরলস প্রচেষ্টায় পার্বত্য এলাকার সব চাইতে মহামারীর ন্যায় ব্যাধি ম্যালেরিয়া আজ নিমূলের পথে । বীর বাহাদুরের আন্তরিক প্রচেষ্টায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাসহ পার্বত্য এলাকায় স্বাস্থ্য,যোগাযোগ,কৃষি ও শিক্ষা বিভাগে আমূল পরিবর্তন এসেছে ।

২০০০ সালের দিকে প্রতিটি উপজাতী-বাঙ্গালী পাড়ায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ ছিল মহামারীর ন্যায় । বর্তমান ওই পরিসংখ্যান থেকে উত্তরণ ঘটেছে । পূর্বের তূলনায় বর্তমানে ম্যালেরিয়া নাই বললেই চলে । নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সহ পার্বত্য এলাকায় ব্র্যাক যে কর্মসূচি গুলি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে । ওই কাজের জন্য তারা প্রশংসার দাবীদার ।

ব্র্যাকের মত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যদি সেবামূখী ও দায়িত্বভান হয় ,তাহলে এলাকার স্বাস্থ্য বিভাগের উন্নতি হবে । গতকাল (১১জুন ) নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্র্যাকের স্বাস্থ্য,পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত উপজেলা পর্যায়ে গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে একদিনের এ্যাডভোকেসী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ উপরোক্ত কথা গুলি বলেন । এছাড়া তিনি ম্যালেয়িা রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য নদী,নালা,খাল-বিল,ঝিরি-নর্দমা,ডোবা,জঙ্গল পরিস্কার রাখার দাবী জানান । এবং মশারী ব্যবহারে আগ্রহী হওয়ার জন্য সবাইকে পরামর্শ দেন । ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রনের জন্য গ্রাম পর্যায়ে ব্র্যাক কর্তৃপক্ষকে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আহবান জানান ।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলামের সভার সভাপতিত্ব করেন । সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম বলেন,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৬০ হাজার লোকের জন্য মাত্র ১জন মেডিকেল অফিসার । তিনি ৩০ দিনের মধ্যে ২৯দিন হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকেন । ১দিন উপস্থিত না থেকে ,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মানুষকে জিম্মি না করে, আপনিও চলে যান । তিনি ৬০ হাজার লোকের জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন সংখ্যক মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেয়ার জন্য আহবান জানান । সরকার স্বাস্থ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে সেবা নিশ্চিত করতে চাইলেও এক শ্রেণীর অসাধু কর্মচারী-কর্মকর্তদের জন্য এই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে ।

উল্লেখ্য যে,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৬০ হাজার ও পার্শ্ববর্তী রামু উপজেলা গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ার ২ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবার এক মাত্র মাধ্যম নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স । ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ টি মেডিকেল অফিসারের স্থলে ১জন মেডিকেল অফিসার কর্মরত আছেন । ১জন যে মেডিকেল অফিসার থাকেন তিনিও মাসের ২৯দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন । সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন,ব্র্যাকের স্বাস্থ্য পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির নাইক্ষ্যংছড়ির সিনিয়র উপজেলার ব্যবস্থাপক সুমন দাশ । বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আতিকুর রহমান,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন,উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার জাহিদুর রহমান,নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেস ক্লাব সভাপতি নুরুল আলম সাঈদ,নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ রঞ্জন চৌধুরী ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হামিদা চৌধুরী,উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন,উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাবেদ মীর জাদা,থানার এস.আই স্টালিন বড়–য়া ,ব্র্যাকের প্রোগাম অফিসার সৃজন দাশ প্রমূখ । সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৯৯-২০০৪ ইং সালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজার জেলার আরো কয়েকটি উপজেলার পাশাপাশি রামু উপজেলায় ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে এম,আর,জি প্রকল্পটিতে ১০৫১ জন শিশুর মাঝে গবেষনার কাজ সম্পন্ন করা হয়।

বর্তমানে এ রোগের চিকিৎসা গ্রহণকারীদের শারীরিক অবস্থার খোজ নেওয়ার পাশাপাশি ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে গবেষকরা। এই ছাড়া মস্তিস্ক সুরক্ষা,শিশুদের মারাতœক ম্যালেরিয়া-পরবর্তী দীর্ঘ মেয়াদীর নিউরোকগনেটিভ পর্যবেক্ষণসহ ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন