পানছড়িতে বাপ-বেটার এইচএসসি পাশ

Hsc20152

শাহজাহান কবির সাজু, পানছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় পিতা-পুত্র এইচএসসি পাশ করে এক অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। তবে পিতা-পুত্রের অভাবের সংসারে কোন ধরনের মিষ্টি বিতরণ ছাড়াই পানছড়ির ইতিহাসে রেকর্ড গড়া এই খবরে পূঁজগাং মূখ মাস্টার পাড়া ও আশ-পাশের গ্রামের সবার মাঝে বইছে খুশীর বন্যা।

সরেজমিনে জানা যায়, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মাটিরাঙা ডিগ্রি কলেজ শাখা থেকে কল্প রঞ্জন চাকমা এইচএসসি পাশ করেন। অপরদিকে তার ছেলে বিশ্বান্তর চাকমাও খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার এইচএসসি পাশ করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেন। একই বছর পিতা-পুত্র একসাথে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করার কোন ঘটনা পানছড়িতে এই প্রথম।

পূজগাং মূখ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক বিজয় কুমার দেবের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, কল্প রঞ্জন চাকমা পূঁজগাং মূখ উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। তার বড় ছেলে বিশ্বান্তর ৫ম ও ৮ম শ্রেণীতে টেলেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেছিল, তার মেজ ছেলে জয়বর্ধন চাকমা পূজগাং মূখ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি’তে জিপিএ ৩.৫০ ও ছোট মেয়ে প্রখরা চাকমা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে টেলেন্টপুল বৃত্তিলাভ করে। এই ধরনের একটি গরীব আদর্শ পরিবারের প্রতি সকলের সহযোগিতা থাকলে আরো অনেক দূর এগোবে বলে তিনি মনে করেন।

কল্পরঞ্জন চাকমার সহধর্মিনী পদ্মসোনা চাকমা জানান, অভাবের মাঝেও বাপ-বেটার ফলাফলে আমি খুব খুশী। দুটি করে মিষ্টি বিতরণ করার ইচ্ছা থাকা সত্বেও অভাবের কারণে তা পারছি না। তবে তার ছেলে-মেয়ের জন্য সবার নিকট দোয়া ও আর্শিবাদ কামনা করছেন।

কল্পরঞ্জন চাকমা জানান, ১৯৮৬সালে এসএসসি পাশ করার পর অভাবের কারণে আর লেখাপড়া করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে পূজগাং মূখ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্বল্প বেতনে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীর চাকরির পাশাপাশি ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার প্রতি নজর দেন। তাদের ভালো ফলাফল দেখে নিজেও আগ্রহী হয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেন এবং ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। তার সহধর্মিনী ও ছেলে বিশ্বান্তর চাকমার অনুপ্রেরণায় সে চাকরির পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যাবে বলে জানান।

এ ব্যাপারে পানছড়ি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শাহজাহান মিয়া জানান, এটি একটি অভাবনীয় সাফল্য। এই ধরনের একটি মেধাবী পরিবারের পাশে কোন প্রতিষ্ঠান বা বিত্তশালীরা সহযোগিতার হাত বাড়ালে তারা অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে তিনি মনে করছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + 6 =

আরও পড়ুন