পাহাড়ে কর অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানালেন ওয়াদুদ ভূইয়াসহ ৪ এমপি

fec-image

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান আয়কর অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য খাগড়াছড়ি আসনের ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের দীপেন দেওয়ান, বান্দরবান আসনের সাচিং প্রু জেরি এবং পার্বত্য তিন জেলার সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি এ্যাডভোকেট মাধবী মারমা।

অর্থ বিল ২০২৬-এ প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কিছু আয়কে করের আওতায় আনার উদ্যোগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তারা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে চিঠি দিয়েছেন।

গতকাল রোববার পাঠানো ওই চিঠিতে সংসদ সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অর্থ বিল ২০২৬ অনুযায়ী আগামী জুলাই থেকে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের বেতন-ভাতা এবং আর্থিক সম্পদ থেকে অর্জিত আয় করযোগ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমা।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের জন্য কর অব্যাহতির এই সুবিধা প্রথমে ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালের আয়কর আইনেও তা বহাল রাখা হয়। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার ভেতরে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে এ কর অব্যাহতি কার্যকর রয়েছে।

সংসদ সদস্যরা বলেন, ওই অঞ্চলের অধিকাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ জীবিকার জন্য জুম চাষ ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা আনুষ্ঠানিক চাকরিতে নিয়োজিত মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত।

তারা আরও উল্লেখ করেন, কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে পার্বত্য অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ও ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়। এর ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করে।

সংসদ সদস্যদের মতে, অঞ্চলটি এখনো নানা উন্নয়নগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। নিরাপদ পানীয় জল, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর মতো মৌলিক সুবিধার ক্ষেত্রে এখানকার মানুষ এখনও পিছিয়ে রয়েছে।

এমন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিদ্যমান কর অব্যাহতির সুবিধা বহাল রাখা প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।

শুধু তাই নয়, চিঠিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও কর অব্যাহতির সুবিধা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় পরিচালিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মালিকানাধীন ফার্ম, কোম্পানি, সমিতি ও সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সংসদ সদস্যরা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্যোক্তা তৈরিতে উৎসাহ জোগাবে, যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াবে এবং তাদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ওয়াদুদ ভূঁইয়া, খাগড়াছড়ি, পার্বত্য চট্টগ্রাম
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন