নিহত খোকন কান্তি নাথের স্ত্রী শেফালী দেবীর দাবী

পিবিআই জেএসএস সামরিক কমান্ডার ধন বিকাশ চাকমাকে রক্ষায় মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছে

fec-image

লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের দোকান কর্মচারী খোকন কান্তি নাথ হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি জেএসএস সামরিক শাখার থার্ড ইন কমান্ড ধনবিকাশ চাকমাসহ ৩ আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে দায়ের করা পিআইবি রিপোর্ট প্রত্যাখান করে নারাজি আবেদন দিয়েছে নিহতের স্ত্রী শেফালী দেবী নাথ।

লামা উপজেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান সোমবার দুপুরে (২৪ ফেব্রুয়ারি) দীর্ঘ শুনানি শেষে নারাজি আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি সিআইডিকে পুনঃতদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।

জানা গেছে, সরই ইউনিয়নের কেয়াজু পাড়া বাজারে আবুল কালাম সওদাগরের মালিকানাধীন দোকান কর্মচারী খোকন কান্তি নাথ দোকানের বিক্রিত পন্যের বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই সকাল ৮ টায় লুলাইং বাজারে গমন করেন। একই দিন ১১.৪৯ টার সময় তার স্ত্রী শেফালী দেবী নাথের সাথে মোবাইলে তার সর্বশেষ কথাবার্তা হয়।

বাড়িতে ফিরে না আসায় খোঁজাখুজি করার পর রাত ১১ টার সময় সরই ইউনিয়নের ছিয়ের ছড়া খালের আগা বটগাছতলা নামক স্থানে খোকন কান্তি নাথের মৃত দেহ পাওয়া যায়। খোকন কান্তি নাথ লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের পূর্ব কলাউজান গ্রামের মৃত সুধাংশু কান্তি নাথের ছেলে।

এই ঘটনায় স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে শেফালী দেবী নাথ লামা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে পরদিন ১৬ জুলাই ২০১৬ ইং তারিখে হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলাটি দায়েরের পর প্রথমে লামা থানার এসআই মোঃ আজমগীর এর পরে এসআই আবু জায়েদ মোঃ নাজমুন নুর এরপরে এসআই খালেদ মোশারফ হোসেন তদন্ত করেন।

তদন্ত চলাকালীন সময় পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই কক্সবাজারে প্রেরণ করা হয়। পিবিআইর এসআই মোঃ সাকের আহমদ এবং পরবর্তীতে এসআই নাজমুল হক দীর্ঘ তদন্ত শেষে বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

নিহতের স্ত্রী শেফালী দেবী নাথ আদালতে দায়েরকৃত নারাজি আবেদনে জানান, পিবিআইর তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি সরেজমিন তদন্ত না করে মনগড়া একটি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন। পিআইবির তদন্ত প্রতিবেদনে ধৃত আসামিদের রক্ষা করার জন্য কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করা হয়েছে।

শেফালী দেবী নাথ তার নারাজি আবেদনে আরো জানান, ধৃত আসামী ধন বিকাশ চাকমা প্রকাশ বড় বাবু, সিংপাত মুরুং ও বিশু বিকাশ ত্রিপুরা মামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কারণে তাদেরকে অত্র মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

কিন্তু পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা জেএসএস এর সন্ত্রাসীদের ভয়ে ও প্রভাবিত হয়ে ধৃত ৩ আসামিকে অত্র মামলা হতে বাদ দেওয়ার জন্য আইনী কৌশল অবলম্বন করে কয়েকজন সাক্ষীর কা: বি: আইনের ১৬১ ধারা সৃজন করেছেন।

শেফালী দেবী নাথ আরো জানান, পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রভাবশালী সন্ত্রাসী সংগঠন কর্তৃক প্রভাবিত হয়েছে। এছাড়া অনৈতিক ও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কারণে পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা সঠিক তথ্য সাক্ষী প্রমাণ গ্রহণ করেনি। বিতর্কিত মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে খুনের মত একটি জঘন্য মানবতা বিরোধী হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিয়ে এই মামলার বাদিকে ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত করেছে।

আরো জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির থার্ড ইন কমানণ্ড ধন বিকাশ চাকমাকে চাঁদাবাজির ১২ লক্ষ টাকা সহকারে র‌্যাব ২০১৭ সালের ২০ মার্চ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে লামা থানার পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় এই মামলায় তাকে বিজ্ঞ আদালতে গ্রেফতার দেখায়।

ধন বিকাশ চাকমা হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের জামিন নেন। পরবর্তীতে ১৫ অক্টোবর ২০১৮ ইং তারিখে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিডব্লিউ দিয়ে এই মামলায় আটক রাখেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − eighteen =

আরও পড়ুন