পেকুয়ায় এক কৃষকের ঘর পুড়িয়ে দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

fec-image

পেকুয়ায় এক কৃষকের ঘর পুড়িয়ে দিয়ে নানা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিণাপাড়ি এলাকায়। ভোক্তভোগী কৃষক নাছির উদ্দিনের স্ত্রী আয়েশা বেগম বাদী হয়ে প্রতিকারের আশায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় পেকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, সদর ইউনিয়নের হরিণাপাড়ি এলাকার কৃষক নাছির উদ্দিনের সাথে আন্নর আলী মাতবরপাড়া এলাকার মৃত বজল করিমের পুত্র আরিফুল ইসলাম, হরিণাফাড়ি এলাকার মৃত বজল আহমদের পুত্র বেলাল উদ্দিন, লাল মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ নুর, কালুর পুত্র মোক্তার আহমদ, মৃত আবুল হোসেনের পুত্র ছাবের আহমদ গং এর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে তার বসতভিটাবাড়ীর জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধ নিস্পক্তি না হওয়ায় প্রতিপক্ষরা কৃষক নাছির উদ্দিন কে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মামলা মোকাদ্দমায় জড়িয়ে নানা ভাবে হয়রানি করে আসছে।

প্রতিপক্ষরা দলবল নিয়ে ওই অসহায় কৃষকের মাথাগোজার ঠাঁইটুকু কেটে নিতে প্রতিনিয়ত তাকে বসতবাড়িতে আসা যাওয়ার সময় মারধরসহ অস্ত্রের মুখে জিম্মী রেখে ঘরবাড়িতে ভাংচুর করে বসতবাড়ি দখল করার চেষ্টা চালায় এবং তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে থাকে। তারই প্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে জি আর ৫২/১৯ ইং, সি আর ১৫৩/১৯ ইং, অপর ১১৪/১৯ ইং মামলা দায়ের করে।

উক্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাগুলো দায়ের করার পর থেকে প্রতিপক্ষরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য বা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছে। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ২৪ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় প্রতিপক্ষরা সশস্ত্র সন্ত্রাসী লোকজন নিয়ে অস্ত্রসস্ত্র সজ্জিত হয়ে ওই কৃষকের বসতবাড়িতে হানা দেয়।

এ সময় ভিটার বিভিন্ন প্রজাতির ৫০/৬০ টি গাছ কেটে নিয়ে যায় এবং ভাংচুর করে। ঘরে প্রবেশ করে ঘরের মালামাল এবং মূল্যবান স্বর্ণগহনা, মামলা মোকাদ্দমার কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়। তাতেও ক্ষান্ত হয়নি সর্বশেষ গত ২৫ নভেম্বর আনুমানিক রাত ১২ টায় ওই কৃষকের গোয়াল ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা চারদিক ছড়িয়ে গেলে স্থানীয়রা এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এতে তার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। ওই কৃষক এসব কিছু থেকে মুক্তি পাওয়া এবং প্রতিকার পাওয়ার জন্য স্থানীয় গ্রাম আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে।

এ ব্যাপারে পেকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম বাহাদুর শাহর কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন ওই অসহায় কৃষক নানাভাবে হয়রানি হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: অভিযোগ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 + three =

আরও পড়ুন