প্রতিবছর কক্সবাজার থেকে ৩৬ হাজার ৮০০ মে.টন ইলিশ আহরণ হয়

fec-image

সারাদেশের ৯টি উপকূলীয় জেলার মধ্যে কক্সবাজার, ভোলা ও বাগেরহাটে সর্বোচ্চ ইলিশ ধরা পড়ে। র‌্যাংকিংয়ে সারাদেশের মধ্যে কক্সবাজার থেকে ৩৬ হাজার ৮০০ মে.টন, ১২.৯৩ শতাংশ ইলিশ আহরণ হয়। সারাদেশে মধ্যে কক্সবাজারের অবস্থান পঞ্চম। বরিশাল বিভাগের মধ্যে ভোলা এবং বরগুনা সবচেয়ে বেশি ইলিশ সরবরাহ করে থাকে। গত অর্থবছরে ভোলা থেকে ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৮৩২ মে.টন এবং বরগুনা থেকে ৭০ হাজার ২৩৭ মে.টন ইলিশ সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে বাগেরহাট হচ্ছে চিংড়ি চাষের অন্যতম প্রধান এলাকা।

সোমবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার শহরের একটি কনফারেন্স হলে ‘টেকসই মৎস্য সম্পদ বিনির্মাণে নারীর অংশগ্রহণ এবং নারীর আর্থ সামাজিক উন্নয়ন আবশ্যক’ শীর্ষক সভায় প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

কক্সবাজার, ভোলা ও বাগেরহাট এই তিনটি উপকূলীয় জেলা নিয়ে জরীপ কার্যক্রম চালিয়েছে দেশের অন্যতম বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) কোস্ট ট্রাস্ট। সংস্থাটির জেন্ডার এন্ড অ্যাকুয়াকালচার প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশের উপকূলীয় জলকৃষি ও মৎস্য চাষে নারীর অংশগ্রহণমূলক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে- কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল, পিএমখালী, ভোলা সদরের ধনিয়া, ভেদুরিয়া, বাগেরহাট সদরের শরণখোলার যাত্রাপুর, ষাটগম্বুজ ও সাউথখালীতে বসবাসকারী মানুষের প্রায় ৪০ শতাংশ জেলে। এই অনুপাত কক্সবাজারে ৬৬.৯৯ শতাংশ। জরীপকৃত এলাকার মোট পরিবারের মধ্যে জেলে পরিবারের সংখ্যা ৭৯৯৪ টি, যা প্রায় ৩৯.৭৮ শতাংশ।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে- কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে মোট ১১৪০ পরিবারের মধ্যে ৯৫৫ জেলে পরিবার। পিএমখালীতে ৯৮০ পরিবারে জেলে পরিবারের সংখ্যা ৪৬৫ টি।

জনসুরক্ষা মঞ্চ কক্সবাজার’র সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ইমাম খাইরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ্।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে টেকসই মৎস্যসম্পদ বিনির্মাণে নারীর অংশগ্রহণের বিকল্প নেই এবং তাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন আবশ্যক। বাংলাদেশে নারীদের জন্য যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সেই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে জলকৃষি ও মৎস্যচাষের মাধ্যমে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

কোস্ট ট্রাস্টের জেন্ডার এন্ড অ্যাকুয়াকালচার প্রকল্পের সহ-সমন্বয়কারী সোহেল মাহমুদের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- জেলা মহিলা বিষয়ক উপ-পরিচালক সুব্রত বিশ্বাস, জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ইকরামুল্লাহ চৌধুরী, কক্সবাজার সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তারাপদ চৌহান, সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অসীম বরণ সেন।

এতে পিএমখালী ও খুরুশকুলের অর্ধশতাধিক নারী উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। তারা নিজেদেরকে সাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে কোস্ট ট্রাস্টের মতো অন্যান্য সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 1 =

আরও পড়ুন