বাংলাদেশ কি এশিয়ার ফিলিস্তিন হতে যাচ্ছে?

fec-image

ড. পিনাকী ভট্টাচার্য বলেছেন,  ওয়ার অন টেররের পশ্চাৎপটে আঞ্চলিক রজনীতিতে ইসলামোফোব মোদির হিন্দুত্ববাদ যার ফুট সোলজার হয়ে গেছে বাংলাদেশের হিন্দুদের একাংশ। বাংলাদেশ এক মহাবিপদের মুখে। তাহলে বাংলাদেশ কি এশিয়ার ফিলিস্তিন হতে যাচ্ছে?

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় নওমুসলিম ওমর ফারুক ত্রিপুরা ১৮ জুন এশার নামাযের পর মসজিদ থেকে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন। তার এই মৃত্যুতে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে প্রতিবাদের ঝড় চলছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের একজন লেখক এবং ফেসবুক এ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে একটি স্টেটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি এসব কথা বলেন।

ফেইসবুকে তিনি আরও লিখেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে একজন মসজিদের ইমামকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হলো। তিনি মসজিদ থেকে ফিরছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়েছিলেন, এই জন্যই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কৌতুহল উদ্দিপক বিষয় হচ্ছে তিনি বা তার পুর্বপুরুষ কিন্তু এর আগে আরেকবার ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টান হয়েছিলেন। খ্রিস্টান হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করা হয়েছিলো। কিন্তু স্বেচ্ছায় জোরাজুরি বা প্রলোভন ছাড়া মুসলমান ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়াটা সহ্য করা হয়নি। আর ঘটনা ঘটলো এমন একটা দেশে যেই দেশে মুসলমানেরাই ৯০% জনগোষ্ঠী।

এখন ধরেন একজন খ্রিস্টান ফাদার বা হিন্দু পুরোহিত বা বৌদ্ধ শ্রমন তার উপাসনালয় থেকে ফেরার পথে এইভাবেই নিহত হলেন। বাংলাদেশে কী ঘটনা ঘটতো। বাংলাদেশের সুশীল বুদ্ধিজীবী স্যেকুলারেরা কাইন্দা শাহবাগে পুকুর বানায়ে ইলিশ মাছের চাষ করতো।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান দেশে ইসলামবিদ্বেষ ওয়ার অন টেররের একটা নতুন ফেনোমেনন। এইটাকে কেমন করে মোকাবেলা করা যায় এইটা নিয়ে কোন আলাপ নাই, আর কোন কৌশলও নাই।

পিনাকী ভট্টাচার্য আরও লিখেছেন, যারা ইসলামি রাজনীতি করেন তারাও এইটারে একটা রিলিজিয়াস ইস্যু হিসেবেই দেখেন। কিন্তু যেইটা বুঝতে তারা ব্যর্থ হয় তা হচ্ছে, এইটা আটারলি সিরিয়াস পলিটিক্যাল ইস্যু। বাংলাদেশ ৯০% মুসলমানদের দেশ বলে আপনি এই প্রব্লেম সলভ করতে পারবেন না। বাংলাদেশ ১০০% মুসলমানের দেশ হইলেও সলভ করতে পারবেন না। মসজিদে ঢুকে যারা মুসল্লি পিটিয়েছে তারাও নামে মুসলমানই। মোদির সফরে যারা গণহত্যা চালিয়েছে তারাও নামে মুসলমানই।

এই লড়াইয়ে যারা পটেনশিয়াল এলাই হতে পারতো তাদের মুসলমানদেরই একটা অংশ দূরে সরিয়ে দেন। ভিন্ন চিন্তার মানুষ হলে হয় তার বদ মতলব আছে কিনা সেইটা আবিষ্কার করার চেষ্টা করেন কেউ কেউ। আবার কেউ কেউ তাদের মুসলমান বানানির কোসেশ করেন।

ভাইজান, যে ভয়ংকর ইসলামোফোব দুনিয়ায় বাস করছেন, সেইটা বাংলাদেশে বসেই আপনার কল্পনা করতে পারা উচিৎ। সংখ্যাগুরু মুসলমানের দেশে আপনার ধর্মীয় লেবাসকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়, ধর্মীয় বই সাথে থাকলে জঙ্গি তকমা পান, ধর্মীয় নেতা হলে গোয়েন্দা পিছে লাগে৷ গুম হয়ে যান। তাহলে মুসলমানেরা যেইখানে সংখ্যালঘু সেইখানে কেমন আছে কল্পনা করেন।

তিনি আরও লেখেন, এই লড়াইয়ে শুধু বাংলাদেশে না সারা দুনিয়ায় জিততে হবে। এই লড়াইয়ে জিতে গেলে দুনিয়াকে দিশা দেখাইতে পারবেন। এই লড়াইয়ে সংখ্যার জোরে জিততে পারবেন না। এদেরকে দূরে সরায়ে দিয়েন না। সবাই পিনাকী না।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × two =

আরও পড়ুন