Notice: Trying to get property 'post_excerpt' of non-object in /home/parbatta/public_html/wp-content/themes/artheme-parbattanews/single.php on line 56

Notice: Trying to get property 'guid' of non-object in /home/parbatta/public_html/wp-content/themes/artheme-parbattanews/single.php on line 58

‘বাঘাইছড়িতে ব্রাশফায়ারে ৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ইউপিডিএফ সরাসরি জড়িত’

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ব্রাশফায়ারে ৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ সরাসরি জড়িত বলে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেইসঙ্গে নৃশংস এ ঘটনার সহযোগী হিসাবে জেএসএস মূল অংশের ইন্ধন থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করছে প্রশাসন। মূলত ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এবং জেএসএস সংস্কারপন্থীরা ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠায়, মূল দু’টি অংশ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ কিলিং মিশন চালিয়েছে বলে ধারণা তাদের।

বাঘাইছড়ি হত্যাকাণ্ডের পর তিনদিনের অনুসন্ধান শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে শান্তি চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এ কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নিয়েছে। বাঘাইছড়িতে ইউপিডিএফের একক আধিপত্য থাকলেও সমঝোতার অংশ হিসেবে তারা জেএসএস মূল দলের প্রার্থী বড়ঋষি চাকমাকে সমর্থন দিয়েছিলো। কিন্তু নির্বাচনে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের প্রার্থী সুদর্শন চাকমার এগিয়ে যাওয়া মেনে নিতে পারেনি দু’পক্ষ’ই। যে কারণে তারা এ কিলিং মিশন চালিয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে ইউপিডিএফ মূল যারা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা। কাজেই এদের করার সম্ভাবনায় বেশি।’

স্থানীয়দের মতে, সরকারি সংস্থাগুলো জেএসএস গণতান্ত্রিক এবং ইউপিডিএফ সংস্কারপন্থীদের সহযোগিতা করছে অজুহাতে পাহাড়ি সংগঠনগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণ। এমনকি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটি থেকে জেএসএস প্রার্থী ঊষাতন তালুকদারের পরাজয়ের পর রাজনৈতিকভাবে তারা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। উপজেলা নির্বাচনেও ফল ভালো হয়নি। তাই আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি নিজেদের শক্তির জানান দিতেই জেএসএসের ইন্ধনে ইউপিডিএফ পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে মত নিরাপত্তা বিশ্লেষকের।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর অব. এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘পারস্পরিক বলয়গুলো থেকে একজন আরেকজন শত্রুর বিরুদ্ধে সহায়তা করা, তাদের সংসদ সদস্য প্রার্থীর হেরে যাওয়া এবং এখন উপজেলা চেয়ারম্যান হেরে যাচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান জানানোর জন্যে এমন কর্মকাণ্ড করেছে।’

এদিকে পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর থেকেই জেএসএস প্রধান জ্যেতিরিন্দ্র বধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তিন পার্বত্য জেলায় অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে না পারায় তাকেও দোষারোপ করা হচ্ছে।

বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান বলেন, ‘সব কিছু সরকার করছে কিন্তু তারা কি সন্তুষ্ট? তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে’

গত তিন বছরে তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি সংগঠনগুলোর সংঘাতে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১শ ৮০ জনের। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে গত বছর ৩৫ এবং চলতি বছর ৮ জনের মৃত্যু হয়। বাকি অন্তত ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়।

সূত্র: somoynews

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন