বান্দরবানে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপে বিএনকেএস

fec-image

বান্দরবানে বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতি (বিএনকেএস) এর বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও সিডা সহযোগিতায় “জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবেলা কর্মসূচি প্রকল্পের” উদ্যোগে জেলার ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া সাংবাদিকদের সাথে সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতি (বিএনকেএস) এর হলরুমে জিবিভি প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর উবানু মারমা সঞ্চালনায় বিএনকেএস এর নির্বাহী পরিচালক হ্লা সিং নু এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান য়ই সা প্রু মারমা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনু ও বিএনকেএস এর সভানেত্রী নেমকিম বম উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা প্রথম আলো প্রতিনিধি বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিনারুল হক, যমুনা টেলিভিশনে জেলা প্রতিনিধি বাটিং মার্মা, ভোরের কাগজ জেলা প্রতিনিধি মংসানু মার্মা, মাছরাঙ্গা টিভি প্রতিনিধি কৌশিক দাশ, আইনজীবি সারা সুদিপা ইউনুস, নারী নেত্রী মনোয়ারা বেগম, মোহনা টেলিভিশন ও দৈনিক গিরিদর্পণ জেলা প্রতিনিধি রাহুল বড়ুয়া ছোটন, বান্দরবান ওমেন চেম্বাস অব কমার্সের ডিরেক্টর উম্মে কুলসুম খুকীসহ বিএকেএস এর প্রকল্প কর্মর্কতা মু মু রাখাইনসহ প্রমুখ।

জিভিবি প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর উবানু মারমা বলেন, মোবাইল ফোন ও সরাসরি যোগাযোগে মাধ্যমে গত মার্চ-আগষ্ট ২০২০ মাসের মধ্যে তথ্য সংগ্রহে মোট ১০২৬ জনের সাথে যোগাযোগ করে যা সহিংসতা তথ্য তুলে আনা সম্ভব হয়েছে তার মধ্যে শারিরীক নির্যাতন ১৪জন, মানসিক নির্যাতন ১৯জন, অর্থনৈতিক নির্যাতন ৩২জন, যৌন নির্যাতন ২জন এবং তালাকপ্রাপ্ত হয়েছে ৫জন নারীসহ পারিবারিক নির্যাতনে শিকার হয়েছে মোট ৭৩জন নারী।

ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশু ৬জন( নারী ৩জন এবং শিশু ৩জন)। তাছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১ জন শিশুকে, মানসিক নির্যাতনে শিকার শিশু ১২জন ও বাল্য বিয়ে শিকার শিশু ৪জন, নির্যাতন করার পর হত্যা করা হয়েছে ১ জন শিশু ও ১জন নারীকে এবং ৭জন নারী আত্বহত্যা করেছে।

সর্বমোট পারিবারিক নির্যাতনে শিকার সংখ্যা ৭৩জন ও অন্যান্য সহিংসতা শিকার নারী ও শিশু সংখ্যা ৩২জনসহ মোট ১০৫জন। যার মধ্যে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় সবচেয়ে আত্বহত্যা বেড়েছে লামা উপজেলা।

তিনি আরো জানান সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বান্দরবান পার্বত্য জেলায় সকল উপজেলা সহিংসতা তথ্য গুলো যদি একত্রে করা যেত তাহলে সংখ্যাগত দিক দিয়ে আরো বেশি হতে পারতো বলে আশা করেন।

বিএনকেএস এর সভানেত্রী নেমকিম বম বলেন, বিএনকেএস এর জিবিভি প্রকল্প মাধ্যমে বান্দরবান সদর উপজেলা কুহালং ও সুয়ালক ইউনিয়নে নারী ও শিশু প্রতি পারিবারিকসহ যেসকল সহিংসতা তথ্য উপস্থাপন করেছে তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় কামনা করেন।

বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনু বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে অগ্রযাত্রা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভূমিকা বা অবদান অনস্বীকার্য। সরকারের পাশাপশি বিএনকেএস এর মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ বান্দরবান জেলা বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। তিনি আরো জানান, নারী ও শিশু প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বিএনকেএস এর জিবিভি প্রকল্পের সেকল তথ্য তুলে ধরেছে তা সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতেও কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিএনকেএস এর পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে বলে জানান।

প্রধান অতিথি য়ই সা প্রু মারমা বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বান্দরবান জেলার যে চিত্র দেখলাম তা আরো বেশি করে যদি গবেষণা বা তথ্য সংগ্রহ করা সুযোগ থাকতো তাহলে সহিংসতা মাত্রা আরো বেশি হতো বলে আশা করি। তিনি জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রথম পরিবার থেকে শুরু করতে হবে বলে জানান।

বিএনকেএস এর নির্বাহী পরিচালক হ্লা সিং নু জানান, গত ২০১৭ সাল হইতে বান্দরবান সদর উপজেলা কুহালং ও সুয়ালক ইউনিয়নে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও সিডা সহায়তা জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। তারই অংশ হিসেবে গত মার্চ-আগষ্ট ২০২০ মাসের প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মীরা সহিংসতা একটি চিত্র তুলে ধরতে সহযোগিতা করেছে।

তিনি আরো বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু সমাজ ব্যবস্থা রীতি-নীতি ও বিশ্বাসে কারনে প্রতিদিন কোন না কোন এলাকায় নারী ও শিশু প্রতি সহিংসতা বেড়ে চলেছে। তিনি এর জন্য মানুষ হিসেবে আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি পরির্বতন করা উপর জোর দেন। পরিশেষে ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা আশা করেন।

সংলাপ সভা প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর উবানু মারমা মাল্টিমিডিয়া মাধ্যমে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং বিগত বছরের প্রকল্পের অর্জন সমূহসহ গত মার্চ-আগষ্ট ২০২০ মাসের সহিংসতা চিত্র তুলে ধরেন। সংলাপ সভায় সকলের কাছে নারী ও শিশু প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় হেল্পলাইন নাম্বার ১০৯ ও পুলিশের সহায়তা জন্য ৯৯৯ নাম্বারটি প্রান্তিক পর্যায়ে জোড়ালো ভাবে প্রচারের দাবী জানানো হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 − three =

আরও পড়ুন