বান্দরবানে সিক্স মার্ডারের নেপথ্যে..

fec-image

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সন্ত্রাসী জীবন ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাওয়া নিজদলীয় ৬কর্মীকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। এ ঘটনায় এক নারীসহ আরো ৩জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

৭ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার বাগমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র মতে, সাম্প্রতিককালে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস নানাবিধ সংকটের মধ্যে সময় পার করছে। এরইমধ্যে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর থেকে চাঁদাবাজি করতে ব্যর্থ হয়ে দলটি অর্থনৈতিক সংকটে পতিত হয়। ফলশ্রুতিতে, অভাব-অনটনের কারণে দলের সদস্যদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে বিগত কয়েক মাসের মধ্যে বেশ কিছু সদস্য জেএসএস (সন্তু) দল ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করে।

অতীতেও এমন পরিস্থিতিতে জেএসএস (সন্তু) তাঁদের নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সংগঠন থেকে বের হয়ে যাওয়া অথবা সংগঠন থেকে বের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ কারীদের বিরুদ্ধে সচরাচর নৃশংস ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

কিছুকাল আগে সন্তু লারমার জেএসএসর জঙ্গী চাকমার নেতৃত্বে ২০-৩০জন নেতাকর্মী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে সন্তু লারমার জেএসএস সন্ত্রাসীরা।’

সূত্রটি জানায়, আজ (৭ জুলাই) সকালে এমনই একটি ঘটনায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রচেষ্টায় থাকা সদস্যদের উপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে জেএসএস (সন্তু)র। এসময় ঘটনাস্থলেই ৬ জন দলত্যাগী সদস্য নিহত হয় এবং এক নারী সদস্যসহ ৩ জন সদস্য আহত হয়।

নিহতরা হলেন, রতন তঞ্চঙ্গা (৬০), প্রগতি চাকমা (৬৫), ডেভিড মারমা (৫০), জয় ত্রিপুরা (৪০), দীপেন ত্রিপুরা (৪২) ও মিলন চাকমা (৬০)। এছাড়া এ ঘটনায় আহতরা হলেন, নিহারু চাকমা (৪২), বিদ্যুৎ চাকমা (৩৩) ও নারী সদস্য হ্লাওয়া চিং মারমা (২৫)।বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + 15 =

আরও পড়ুন