বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নের জনগণ এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে বঞ্চিত

fec-image

রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার একমাত্র দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল ফারুয়া ইউনিয়নের জনগণ এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পশ্চাৎপদ ফারুয়া ইউনিয়নের জনগণ সকল ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে রয়েছেন। তারাও স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক, তাদের কি নেই নাগরিক অধিকার? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষতার নেতৃত্বে দেশের জনগণ ডিজিটাল সুবিধা পাচ্ছে।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস পার্বত্য এলাকার মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের জনগণ ডিজিটাল সেবা কি তারা এখনো জানেনা! বর্তমানে সমস্তকিছু ডিজিটাল আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে, নাগরিক সেবা অনলাইনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। যাতে প্রত্যেক নাগরিকগণ ঘরে বসে সেবা পায়। কিন্তু এ হতভাগা ইউনিয়নের জনগণ এসব সুযোগ সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত। সরকারের উচিত অচিরেই এ পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নকে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা।

বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড গুলোতে জীবনের ঝুকি নিয়ে রাস্তাবিহীন মোটর বাইকে যেতে হয়েছে গ্রামে গ্রামে জনপ্রতিনিধিদের। যেকোন মূহূর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশংকা ছিল সবসময় সকলের মধ্যে। তবুও কখনো ক্লান্ত হয়নি জনপ্রতিনিধি।

বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া থেকে যোগাযোগের পথ বর্তমানে পাশ্বর্বতী উপজেলা রাজস্থলীর সাথে সুব্যবস্থা করতে সীমান্ত সড়ক নির্মিত হলে অর্থনৈতিক পথ সুগম হবে। জীবনযাত্রার মান উন্নত হলে পরিবর্তন ঘটবে সমাজ ব্যবস্থা ও এলাকার উন্নয়ন।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যালা্ল তনচংগ্যা টেলিফোনে জানান, ফারুয়া ইউনিয়নটি অতি দূর্গম হওয়াতে অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে উন্নয়নে পিছিয়ে আছে, মোবাইল নেটওয়াক না থাকার কারণে সহজে যোগাযোগ করা যায় না। তাই একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ফারুয়া ইউনিয়নের সেবাদানের লক্ষ্যে সরকার যাতে মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপন করে দেয় সেজন্য ইউপি চেয়ারম্যান হয়ে ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে জোড়দাবী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাবেক পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এমপি বলেন, বিএনপির আমলে তিন পার্বত্য জেলায় সীমাবদ্ধতার মধ্যে মোবাইল নেট চালু ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য অঞ্চলের আনাচে কানাচে নেট চালু করে জনগনের নাগরিক সুবিধা তরান্বিত করে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু কিছু এলাকায় আঞ্চলিক সংগঠনের চাঁদাবাজীর কারণে মোবাইল নেট স্থাপন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ফলে পার্বত্য এলাকায় অবৈধ অস্ত্রধারীর কারণে আজ উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 + eight =

আরও পড়ুন