বেইলী ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে নদীতে, কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়কে যোগাযোগ বন্ধ
কাউখালী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়কের বেতছড়ি এলাকায় চল্লিশ বছরের পুরাতন বেইলী ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে পড়ায় কাউখালী-চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ভাঙ্গা ব্রিজ দিয়ে দৈনিক শত শত সিএনজি অটোরিক্সা মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন দু’জন।
এলাকাবাসী জানায়, কাউখালীর সাথে দেশের অন্যান্য স্থানে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়কের বেতছড়ি এলাকায় চল্লিশ বছরের পুরনো বেইলি ব্রিজের একটি পাটাতন খুলে পড়ে গত ১৬ অক্টোবর রাতে। ভারী যান চলাচলের কারণে পরের দিন আরো দু’টি পাটাতন খুলে নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে অবগত করে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থেকে ব্রিজটি দেখার জন্য কেউ আসেনি।
ফলে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে আজ সোমবার দুপুরে আরো দু’টি পাটাতন খুলে নদীতে পড়ে গেলে কাউখালীর সাথে চট্টগ্রাম ও অন্যান্য স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। সীমাহীন দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন অফিসগামী সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে একাধিক সিএনজি অটোরিক্সা। এতে মারাত্মক আহত হয়েছেন মোঃ রুবেল নামের এক সিএনজি ড্রাইভার ও অপর এক যাত্রী।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যসহকারী মোঃ সোলাইমান জানান, চল্লিশ বছরের পুরনো বেইলী ব্রিজটি এ পর্যন্ত অর্ধশত বার সাধারণ সংস্কার ও দু’দুবার টেন্ডারের মাধ্যমে সংস্কার করা হয়েছে। খরচ করা হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। কিন্তু কিছুতেই এটি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছেনা। এছাড়াও এ ব্রিজের ধারণক্ষমতা রয়েছে মাত্র দশ মেঃটন। কিন্তু প্রতিদিন এর তিনগুন বেশী ওজনের ইট ও কাঠ বোঝাই গাড়ী চলাল করায় ব্রিজটি প্রতিনিয়ত ভেঙ্গে পড়ছে।
ব্রিজ মেরামতে আসা সড়ক বিভাগের মেকানিক্স মোঃ মফিজুল ইসলাম জানান, ব্রেইলী ব্রিজের আসল খুচরা যন্ত্রাংশ না থাকায় স্থানীয়ভাবে ঝালাইয়ের মাধ্যমে বার বার সংস্কার করা হচ্ছে। ফলে এটি স্থায়ীভাবে মেরামত করা সম্ভব হচ্ছেনা।
খবর পেয়ে রাঙামাটি থেকে ব্রিজটি দেখতে আসেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাঙামাটি জেলার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আতিক উল্লাহ ভূঁইয়া ও সহকারী প্রকৌশলী অরবিন্দু চাকমা।
তারা জানান, বেইলী ব্রিজটি বেশ পুরনো। এসব ব্রিজের প্রকৃত যন্ত্রাংশ বর্তমানে বাজারে পাওয়া কষ্টসাধ্য। তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, আশাকরি দু’দিনের ভেতর ব্রিজটি যান চালাচলের জন্য খুলে দেয়া যাবে।
উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আতিক উল্লাহ ভূঁইয়া জানান, ব্রিজটি বার বার সংস্কার না করে যাতে স্থায়ীভাবে পাকা নির্মাণ করা যায় সেজন্য আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।


















