ভারত ও ইসরায়েলের অর্থায়নে

বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি : দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিষফোঁড়া

fec-image

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার স্থিতিশীলতা ধ্বংসের জন্য একটি ভয়াবহ ‘বিষফোঁড়া’ হয়ে উঠেছে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। নিজেদেরকে তথাকথিত স্বাধীনতাকামী সংগঠন দাবি করলেও বাস্তবে এটি ভারত ও ইসরায়েলের অর্থায়নে এবং সহযোগিতায় পরিচালিত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যাদের মূল লক্ষ্য পাকিস্তান রাষ্ট্রকে খণ্ড-বিখণ্ড করে মুসলিম উম্মাহকে দুর্বল করা। খবর ইসলাম ইনসাইট’র

প্রকাশিত খবরে আরো বলা হয়, বিএলএ’র এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছে ভারত ও ইসরায়েলের সেই কুখ্যাত ডকট্রিন যার একমাত্র লক্ষ্য হলো মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশটিকে ধ্বংস করে মধ্য এশিয়ায় নিজেদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। যেসকল নামধারী জিহাদিস্টরা মগজধোলাইয়ের শিকার হয়ে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বিএলএ-কে সাপোর্ট দিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে স্বাধীনতা যুদ্ধের নামে বৈধতা দিচ্ছে, তারা মূলত মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। এই মূর্খরা কি জানে না যে – বিএলএ একটি কট্টর সেক্যুলার উগ্র গোষ্ঠী? কিভাবে তারা এদের মত মুরতাদদের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে?

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই তথা কথিত বা সো-কল্ড জিহাদিস্টরা কি এটাও জানে না যে – বিএলএ-এর নারী ও পুরুষেরা অবাধ মেলামেশা করে এবং তাদের সকল কর্মকান্ডই ইসলামি মূল্যবোধ বিরোধী। যাদের লক্ষ্য হল – ‘জাহেলিয়াতের’ মতো উগ্র বেলুচ আভিজাত্য বা জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব পুরো পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠা করা। এরা কি ঘেঁটে দেখেনি যে – বিএলএ-র হাতে থাকা আধুনিক মারণাস্ত্র, ড্রোন এবং অত্যাধুনিক লজিস্টিক গিয়ারগুলোর প্রায় সবই সরাসরি ইসরায়েলের সরবরাহকৃত এবং যার অর্থায়ন করে হিন্দুত্ববাদী ভারত?

২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিএলএ-কে ভারত ও ইসরায়েল মিলে এতোটাই আধুনিকায়ন করেছে যেন বিএলএ পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ে লিপ্ত থাকে, যার চূড়ান্ত ফায়দা লুটবে তাদের আসল প্রভু মোদি ও নেতানিয়াহু। এই ‘সো-কলড জিহাদি ও ‘FOM’ (Facebook Online Mind) রা মূলত পাকিস্তান রাষ্ট্রকে ‘মুরতাদ’ তকমা দিয়ে সেখানে নির্বিচারে মুসলিম হত্যাকে বৈধতা দিতে চায়। তারা কি জানে না যে, তাদের এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা আসলে তাদের ‘শায়খ নরেন্দ্র মোদি’ এবং ‘শায়খ নেতানিয়াহুর’ এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করছে?

মুসলিম বিদ্বেষী ভারত এবং ফিলিস্তিন দখলকারী ইসরায়েলের স্বপ্ন পূরণ করাই কি এই তথাকথিত জিহাদিদের কাজ?

লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ভারতে যখন মুসলিমদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চলে, তখন এই বিএলএ টু শব্দটিও করে না। অথচ বিএলএ-র হামলায় কত নিরপরাধ মুসলিমের রক্ত ঝরছে এই প্রশ্ন করলে এই সমর্থকদের মুখে তালা লেগে যায়। এই পরিস্থিতি ঠিক সিরিয়ার সন্ত্রাসী সংগঠন YPG এবং SDF এর মতো যারা পশ্চিমাদের ফান্ডে মুসলিম ভূখণ্ডে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।

এই ‘ফোম’ ও সো-কল্ড জিহাদিদের মগজধোলাই এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে – কাল যদি আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব দখল করতে সেনাবাহিনীর ওপর সরাসরি হামলা চালায়, দেখবেন এই মূর্খরা তখন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে শুরু করবে এবং অমুসলিম সন্ত্রাসীদের পক্ষে সাফাই গাইবে।

একটি মুসলিম প্রধান দেশে অমুসলিম সন্ত্রাসীরা মুসলিমদের মারছে এতে কার ফায়দা হচ্ছে? কে অট্টহাসি হাসছে? এটুকু বোঝার ন্যূনতম ক্ষমতাও এই মূর্খদের নেই। তাই বাংলাদেশের সচেতন মানুষকে এখনই এই সব ফোম ও সো-কল্ড জিহাদি তথা খারেজি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মনে রাখবেন, এদের শায়েখ হলো মোদি ও নেতানিয়াহু।

বর্তমানে পাকিস্তানে যা ঘটছে, ঠিক একইভাবে যেন আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে তারা কোনো মুসলিম হত্যার মহড়া চালাতে না পারে সেদিকে কঠোর নজরে রাখতে হবে। এদের যদি এখনই রুখে দেওয়া না যায় তবে এরা বাংলার মুসলিমদের বুকে বসে এদেশেরই অপূরণীয় ক্ষতি করে ছাড়বে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন