মিয়ানমারকে বাধ্য করতে না পারলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না

fec-image

ডক্টর ইউনুস যখন জাতিসংঘ মহাসচিবকে কক্সবাজারে বলেছিলেন, আগামী ঈদে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে নামাজ পড়বে। আমি সাথে সাথে লিখেছিলাম, এটা অবাস্তব।
থাইল্যান্ডে গিয়ে আসিয়ান সম্মেলনে বার্মিজ সরকার কর্তৃক এক লাখ আশি হাজার রোহিঙ্গার পরিচয় নিশ্চিত করার তালিকা ঘোষণার পর দেশের মধ্যে এটাকে যখন বিরাট সাফল্য বলে তুলে ধরা হলো, আমি সাথে সাথে বলেছিলাম, এটা একটা ধাপ্পাবাজি। একজনকেও ফেরাতে পারবে না।

বাস্তবেও আমরা দেখতে পেলাম, ফেরানো তো দূরে থাক বরং আরো দেড় লক্ষ রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এবং সীমান্তের ওপারে আরো প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশে ঢোকার। আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে এই সমস্যা প্রবলভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চলেছে।

মালয়েশিয়া গিয়ে ডক্টর ইউনুস রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরাতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চেয়েছেন। এটাই আমাদের প্রধান সমস্যা। রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আমাদের নিজেদের করণীয় না করে কেবল বিদেশীদের সহায়তা চাইছি। কখনো আমেরিকার, কখনো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কখনো চায়না, ভারত, ওআইসি, আসিয়ান, জাতিসংঘ প্রভৃতি দেশ, সংস্থা ও আন্তর্জাতিক জোটের সহায়তা চাইছি। কিন্তু আমাদের নিজেদের করণীয় যেটা, আমরা তা করছি না, করতে চাইছি না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নির্ধারিত হয় সম্পূর্ণরূপে স্বার্থের ভিত্তিতে। এখানে কৃতজ্ঞতা, প্রাপ্যতা, অধিকার, দাবি-দাওয়া, খাতির, সম্পর্ক শব্দগুলো অচল। স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক গড়েও ভারত থেকে শেখ হাসিনা তিস্তায় এক ঘটি জল আনতে পারেননি। ফারাক্কায় আমাদের প্রাপ্য পানি আমরা পাইনি। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতার তসবিহ জপেও পুশইন বন্ধ করা যায়নি। কাঁটাতারে আবদ্ধ একটি দেশ, যেখানে ঝুলে থাকে ফেলানিরা।

প্রকৃতপক্ষে ভারতের কাছ থেকে প্রাপ্য ও অধিকার আদায় করার কোনো ক্ষমতাই আমাদের নেই। ভারত এটা জানে। তাই তারা বাংলাদেশকে এভাবে উপেক্ষা করতে পারে। একইভাবে মিয়ানমার ও আরাকান আর্মিও জানে, তারা স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে না নিলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। সে কারণে বাংলাদেশকে এভাবে উপেক্ষা করতে পারছে। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান মিয়ানমারে গিয়ে সে দেশের সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ পায় না।

প্রথম সাত বছর আমরা একটি ভুল নীতি অনুসরণ করেছি। বাংলাদেশ মনে করেছে, আরাকান আর্মি রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিলে বোধহয় তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে। সেই লক্ষ্যে আরাকান আর্মিকে অঘোষিতভাবে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু আরাকান আর্মি রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর সাথে সাথে চোখ উল্টে ফেলেছে। এটা আমাদের ভুল পাঠ ছিল।

ইতিহাসে বেশির ভাগ সময়, রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন মূলত বামাররা নয়, রাখাইনরা করেছে। ইতিহাসে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের নেতৃত্ব দিয়েছে বামাররা নয়, রাখাইনরা। বার্মিজ সরকার তাদের অবৈধ আরাকান দখল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিভাইড এন্ড পলিসি নীতি অনুসরণ করে রোহিঙ্গা ও রাখাইনদের মধ্যে অবিশ্বাস আস্থাহীনতা ও সংঘর্ষের হাওয়া দিয়েছে। কখনো স্থানীয় রাজনীতির চাপে সরাসরি রোহিঙ্গাদের উপরে অত্যাচার করেছে। এহেন রাখাইনদের বিশ্বাস করা এবং তাদের উপরে আস্থা রাখা আমাদের একটি বড় ভুল পাঠ ছিল। এখন আমরা সেটি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি, কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে ততদিনে।

প্রকৃতপক্ষে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরাতে হলে বাংলাদেশকে তার নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এই কথাটা আমি নিশ্চিত করে বলছি, বা কেউ লাখ কথার এক কথা হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন যে, বার্মিজ সরকার ও আরাকান আর্মিকে বাধ্য করতে না পারলে তারা কখনোই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে না। একমাত্র বাধ্য হলেই বার্মিজ সরকার বা আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে।

এবং সেটা তখনই সম্ভব যখন তারা বুঝবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া তাদের জন্য ক্ষতির থেকে লাভ বেশি অথবা ফিরিয়ে না নিলে তাদের প্রভূত ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখনই তারা ফিরিয়ে নেবে। এর বাইরে আর কোনো রাস্তা নেই। আপনি যা খুশি করতে পারেন, কিন্তু কোনো ফল লাভ হবে না।

অন্যভাবে বললে বলা যায়, মিয়ানমারকে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যভাবে বোঝাতে হবে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নিলে তোমাদের লাভের থেকে ক্ষতি বেশি। এটা যেদিন ওরা বিশ্বাস করবে, সেদিন নিজে থেকেই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। ঠিক যেভাবে জিয়াউর রহমান করেছিলেন। রোহিঙ্গাদের ফেরাতে এটাই একমাত্র রাস্তা। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে দুটো পথ।

এক. বাংলাদেশকে সামরিকভাবে এমন শক্তি অর্জন করতে হবে যা মিয়ানমার ভয় পাবে। মিয়ানমারকে যদি বিশ্বাস করানো যায়, রোহিঙ্গাদের জোর করে তাদের দেশে ফিরিয়ে দেয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে, তখন তারা নতজানু হয়ে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। এর মানে এই নয় যে, বাংলাদেশ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। কিন্তু যুদ্ধ করার এবং জয়লাভ করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। তারা এটি ব্যবহার করছে না কিন্তু প্রতিপক্ষ সবসময়ই এই বিষয়টি মাথায় রাখে বা মাথায় রাখতে হয়। এজন্য বাংলাদেশের দ্রুত সে ধরনের সামরিক সক্ষমতা অর্জন প্রয়োজন। তবে খুব দ্রুত সে কাজটি সহজ নয়।

দুই. সক্ষম অন্তত ৫০ হাজার রোহিঙ্গাকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এটা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে হতে হবে। আরসা বা আরএসও-এর মতো পুরাতন বা ডবল ক্যাপড সংগঠনের উপর নির্ভর করে নয়, বিদেশি কোন শক্তির সহায়তায় নয়। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে, নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। আরসা বা আরএসও এর পুরাতন বাহিনীগুলোর সাথে নানা আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সম্পর্ক থাকায় তাদের উপরে নির্ভর করা যেমন বিপজ্জনক। তেমনি তারা এই সুযোগকে ভিন্ন খাতে ব্যবহার করতে পারে। সে কারণে এই উদ্যোগটি হতে হবে নতুন এবং সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে।

এই বাহিনী দিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু মিয়ানমারকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে বোঝাতে হবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নিলে এই বাহিনী তার দেশের মধ্যে ঢুকতে পারে যে কোনো সময়। এটা যদি তাদের বিশ্বাস করানো যায়, অবশ্যই এই ধরনের বাহিনী সৃষ্টির পূর্বেই মিয়ানমার বা আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। চার-পাঁচ হাজার লোকের নয়, কমপক্ষে ৩০ থেকে ৫০ হাজার লোকের এই বাহিনী হতে হবে। সে পরিমাণ সক্ষম রোহিঙ্গা বাংলাদেশের হাতে রয়েছে।

তাছাড়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গেলেও তাদের টিকে থাকার জন্য এই সামরিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরী। প্রবল রোহিঙ্গা বিদ্বেষী রাখাইন জাতির হাত থেকে নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য তাদের এই সামরিক প্রশিক্ষণের দরকার রয়েছে। অন্যথায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিলেও আবার রাখাইনরা অত্যাচার করে তাদের বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেবে কোনো না কোনো সময়। সে কারণে এই প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

আবার বলছি, যুদ্ধ করার জন্য নয়, প্রয়োজনে যা কিছু করা দরকার তা করার সক্ষমতা অর্জন করতে না পারলে কখনোই বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, চায়না বা অন্য কোনো দেশে ঘুরে লাভ নেই। এখানে প্রত্যেকের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। তারা তাদের স্বার্থের জন্য এখানে ঘুরছে। রোহিঙ্গা ইস্যু কেবল তাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তাদের হাতে একটি দারুণ কার্ড হিসেবে তৈরি হয়েছে। সেই কারণে তারা এই কার্ডটি বাঁচিয়ে রাখতে চায়। এই কার্ড দেখিয়ে তারা তাদের স্বার্থ উদ্ধার করছে। বাংলাদেশের স্বার্থ নয়।

মানবিক করিডরের নামে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আমেরিকা এখন সে দেশের দুর্লভ খনিজ পদার্থ কব্জা করার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিছুদিন আগে সে দেশে থাকা মার্কিন রাষ্ট্রদূত দুর্লভ খনিজ সমৃদ্ধ স্পট ভ্রমণ করেছেন। চায়নাকে স্থলপথে বঙ্গোপসাগরে নেমে আসার রাস্তা বন্ধ করতেও এখানে তাদের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরী। ভারত কেবল কালাদান প্রজেক্ট নয়, সাত বোন রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সে দেশের বিদ্রোহীরা যাতে মিয়ানমারের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করাই তাদের মূল স্বার্থ।

অন্যদিকে নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাবে মিয়ানমারের দুর্লভ খনিজ সংগ্রহ করতে না পারলেও আমেরিকার সাহায্যে সেখান থেকে খনিজ সংগ্রহ করে নিজেদের দেশে সংশোধন প্লান্ট স্থাপন করে বিপুল মার্কিন বিনিয়োগ সংগ্রহ এখন তাদের মাথায় ঢুকেছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমারের ব্লকগুলো থেকে তেল-গ্যাস আহরণের বিষয়টা তো রয়েছেই।

চায়নার যেমন সেখানে বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে, একই সাথে ইউনান থেকে সহজে বঙ্গোপসাগরে নেমে আসার জন্য যে সিম্যাক প্রজেক্টে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে সেটা সুরক্ষা করা তাদের জন্য প্রথম প্রায়োরিটি। এটা এতটাই জরুরী যে, তা সুরক্ষার জন্য ইতিমধ্যেই সে দেশে ভাড়াটে বাহিনী প্রেরণ করেছে চায়না। মিয়ানমারের বিপুল পরিমাণ দুর্লভ খনিজ পদার্থের ৯০% এককভাবে চায়না আহরণ করে থাকে।

এছাড়াও যে কোনো ফর্মে সীমান্তবর্তী দেশে মার্কিনী বা চাইনিজ বিরোধী কোনো রাষ্ট্র বা শক্তির অবস্থান তাদের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। এই সকল সমীকরণ ও বিপুল অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ পাশে সরিয়ে রেখে কেউ বাংলাদেশের স্বার্থ উদ্ধার করবে- এটা ভাবা কেবল পাগলের পক্ষেই সম্ভব।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ মন্ত্রী পদমর্যাদায় একজন মার্কিন প্রবাসীকে নিয়োগ দিয়েছে, যিনি দীর্ঘদিন সে দেশে বসবাস করছেন এবং বাংলাদেশের টাস্ক শেষ হলে আবার সেখানেই ফিরে যাবেন। এরকম একজন লোকের কাছে এই সেনসিটিভ দায়িত্ব দেয়া কতটুকু সঠিক হয়েছে, তা এখন আমরা বুঝতে পারছি। তাও আবার তাকে সংবিধান ও গোপনীয়তা রক্ষার কোনো শপথ নেয়া ছাড়াই এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অথচ তিনি দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট সৃষ্টি হলে তিনি কোন পক্ষ নেবেন, তা বোঝা কষ্টকর নয়। সে কারণে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি নিজ গরজে জাতিসংঘ মহাসচিব-এর সাথে দেখা করে মানবিক করিডোর নামে এমন এক ফর্মুলা বাদলে দিয়েছেন, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নাড়া দিয়েছে।

গত এক বছরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার কোন অর্জন দেশবাসী দেখতে পায়নি। একজন রোহিঙ্গাকে ফেরানো তো দূরের কথা, উল্টো আরো দেড় লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। বর্ডারে আরো ৫০ হাজার অপেক্ষা করছে। তার প্রথম নিয়োগ রোহিঙ্গা বিষয়ের চেয়ে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, এমনকি রাজনৈতিক বিষয়ে তাকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে।

এ ধরনের ভুলনীতি, এটাই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অবস্থান দীর্ঘতর করার জন্য একমাত্র দায়ী। বাংলাদেশ এ বিষয়ে সবসময় আমেরিকা কী চায়, ভারত কী চায়, চায়না কী চায়- সেগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে একেক সময় একেক পথে হেঁটেছেন। উচিত ছিল বাংলাদেশের কী চাওয়া উচিত, বাংলাদেশের কী প্রাধান্য হওয়া উচিত, বাংলাদেশের কী করা প্রয়োজন এবং বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পলিসি নির্ধারণ করা। এবং সেই পলিসি বাস্তবায়নে বিদেশীদের সহায়তা কামনা করা।

অথচ সমস্যা বাংলাদেশের কিন্তু সমাধানে বাংলাদেশ বিদেশীদের পলিসি এডপ্ট করে সামনে এগিয়েছে। বিদেশীরা যেহেতু তাদের স্বার্থের অনুকূলে তাদের পলিসি নির্ধারণ করেছে; সে কারণে পরস্পর স্বার্থবিরোধী বিদেশী শক্তিগুলো একজনের পলিসি আরেকজন আটকে দিয়েছে। এতে রোহিঙ্গা সমস্যার কোনোই সমাধান হয়নি। ভবিষ্যতেও যদি বাংলাদেশ একই পথে অগ্রসর হয় বা এই পলিসি থেকে ফিরে আসতে না পারে এবং নিজস্ব স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নিজস্ব পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে না পারে- তাহলে রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো সমাধান নেই।

লেখক  : সম্পাদক, পার্বত্যনিউজ

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: মেহেদী হাসান পলাশ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন