রামগড়ে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত-৪
রামগড় প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির রামগড় চা বাগানে বৃহস্পতিবার ইউপি নির্বাচনে পরাজিত দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দু‘জন চা শ্রমিক নেতাসহ চার ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় ছিঁটানো গরম পানিতে তিন জনের শরীর ঝলসে গেছে।
এদের মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের চা বাগানের ভ্যালী সেক্রেটারি পরিমল দে (৪৫)কে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। গরম পানিতে তার শরীরে বেশীর ভাগ অংশ ঝলসে গেছে। এ ছাড়া রামগড় চা বাগানের পঞ্চায়েতের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার মুন্ডা (৩২) ও পরাজিত মেম্বার পদপ্রার্থী চা শ্রমিক বিমল চন্দ্র দে (৫৫)-কে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গরম পানিতে ঝলসে আহত হৃদয় উড়াং (২২) নামে অপর শ্রমিক রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ীতে চলে গেছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে রামগড় চা বাগানের ৫ নম্বর লাইনে যতন কর্মকারের চা দোকানের সামনে সদ্য অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে পরাজিত মেম্বার পদপ্রার্থী বিমল চন্দ্র দে’র সাথে তার প্রতিদ্বন্দ্বি পরাজিত প্রার্থী মিন্টু চন্দ্র দে ছোটনের সমর্থক বরুণের কথার কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিমলের ভাতিঝা রিপন এসে বরুণের ওপর চড়াও হলে দু‘জনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে চা শ্রমিক কালা ধনা, কালা বিকাশসহ দু‘পক্ষের ১০ থেকে ১৫জন মহিলা পুরুষ এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় চায়ের দোকানে চা বানানোর জন্য চুলার ওপর রাখা গরম পানি নিয়ে একে অন্যের শরীরে ছুঁড়ে মারেন দু‘পক্ষই। দু‘পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে এসে চা বাগানের পঞ্চয়েত কমিটির সভাপতি মদন রাজঘর ও সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার মুন্ডা হামলার শিকার হন। এর মধ্যে লাঠির আঘাতে বিপ্লব মুন্ডা’র মাথায় আঘাত পায় এবং গরম পানিতে হাত ঝলসে গেছে। চা বাগনের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন বিমল চন্দ্র দে বলেন, নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষ প্রার্থী মিন্টু কুমার দে ছোটনের আত্মীয়স্বজন ও সমর্থকরা আমাকে গালমন্দ করেন । পরে আমার ছোট ভাই ধনাকেও বেদম মারধর করে তারা। আমি বাধা দিতে গেলে আমার ওপরও হামলা চালানো হয়। এ সময় ছোটনের সমর্থক বিপ্লব মুন্ডা গরম পানি ছুঁড়ে আমার আরেক ভাই পরিমলের সমস্ত শরীর ঝলসে দেয়।
পরাজিত মেম্বার পদপ্রার্থী মিন্টু চন্দ্র দে ছোটন বলেন, গত বুধবার রাতে বাগানের ৮ নম্বর লাইনে বিমল চন্দ্র দে আমার সমর্থকদের অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন। এ ব্যাপারে পঞ্চায়েতের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সাথে নিয়ে বৃহস্পতিবার ৫ নম্বর লাইনে বিমল বাবুর সাথে কথা বলতে গেলে তার ভাই ও ভাতিঝাসহ ১০ থেকে ১২জন লোক পঞ্চয়েত নেতা ও আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়।
রামগড় চা বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চা শ্রমিকদের দু‘পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বাগানের আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
বাগানবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুস্তম আলী বলেন, গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাগানবাজার ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে সাবেক মেম্বার বিমল চন্দ্র দে ও মিন্টু চন্দ্র দে ছোটন ভোটে দু‘জনই পরাজিত হন। এ পরাজয়ের জন্য একে অন্যকে দায়ী করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আহতরা সুস্থ হয়ে ফেরার পর উভয় পক্ষকে নিয়ে শালিস বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. তারেক নিজামী বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তিনজন আহত রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে বিপ্লব কুমার মুন্ডা নামে এক রোগীর মাথা ফেটে গেছে এবং গরম পানিতে এক হাত ঝলসে গেছে। তিনি এবং বিমল চন্দ্র দে নামে অপর আহত রোগী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।


















