শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : ইউএনও সেলিনা আক্তার


রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বলেন, ভোট প্রদান প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভোটারদের ভয়ভীতি, হুমকি বা প্রলোভনের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন ভোটাররা যেন তাদের নিজ নিজ পছন্দ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট সকল বাহিনী সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
ইউএনও সেলিনা আক্তার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর, ভয়ভীতিহীন, নিরপেক্ষ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। যাতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মূল্যবান ভোট যার যার ইচ্ছেমতো প্রয়োগ করতে পারেন। আমি আশা করব, এ উপজেলার দুর্গম এলাকার সমস্ত ভোটাররা তাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করবেন।
অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। প্রত্যেকটি এলাকায় ঘুরে মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। মাঠে থাকা কর্মকর্তারা জনগণের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রেখে ভয় ও আতঙ্ক দূর করে ভোটারদের ভোট প্রয়োগে উৎসাহ প্রদান করেছেন। ভোটাররা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে যার যার ভোট প্রয়োগ করতে পারেন, সে ব্যাপারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তফসিল ঘোষণার পরপরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যার কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক ও আমাদের অনুকূলে। রাঙ্গামাটি আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা ভয়-ভীতিহীনভাবে নির্বাচনী গণসংযোগ করেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রয়োগ করতে পারেন সেই ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
সকল প্রার্থীর সমর্থকদের নিয়ে রাজস্থলীর সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবং রাজস্থলীর সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে চিহ্নিত করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ মোবাইল টিম পৌঁছাবে তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবং কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ফোর্স থাকবে। নাগরিকরা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোট-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করা হবে। রাজস্থলীতে নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি তিনি বলেন, আপনাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বই হবে এই নির্বাচনের মূল শক্তি।
নির্বাচনে কারচুপির কোনো আশঙ্কা নেই। শতভাগ স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সকল প্রকার আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

















