সাজেকের ১৩০গ্রামের ৭হাজারের অধিক পরিবারের কেউ সহায়তা পাননি

fec-image

করোনাভাইরাসে পরিস্থিতিতে কর্মহীন লোকজনের মাঝে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এরই মাঝে রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার দেশের সর্ব বৃহৎ ইউনিয়ন সাজেকের ১৭৪টি গ্রামের কয়েকটিতে ত্রাণ সহায়তা দিতে দেখা গেলেও বাদ পড়েছে ১৩০ গ্রামের প্রায় ৭ হাজারর পরিবারের মানুষ।

জানা যায়, উদলছড়ী, নতুন জপ্পই, শান্তি পাড়া, নিউ থাংনাং, তারুম পাড়া, কজৈছড়ি, ৯নং ত্রিপুরা পাড়া, ভুয়াছড়ি, মন্দিরাছড়া, রতনপুর, হালিম পাড়া, লংকর ডেবাছড়া, ভূইয়াছড়াসহ ১৩০টি গ্রামে ৭হাজারের অধিক পরিবার কেউ ত্রাণ সহায়তা পাননি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাজেক ইউনিয়নের রুইলুই পাড়া পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ রয়েছে। এই সড়কের আশোপাশে রয়েছে ৩৫টি গ্রাম। এসব গ্রামের লোকজনের যাতায়াতও সড়ক পথে।  বাকী ১৩৯টি গ্রাম রয়েছে সাজেকে দূর্গম এলাকায় যেখানে অধিকাংশ গ্রামের লোকজনের যাতায়াত হচ্ছে পায়ে হাঁটার রাস্তা এবং নৌপথের যোগাযোগও রয়েছে কয়েকটি গ্রামের।

আর সাজেকের অধিকাংশ গ্রামসহ ১৩০টি গ্রামের লোকজনের প্রধান পেশা হচ্ছে জুম চাষ ও কৃষি। গ্রামের লোকজন উৎপাদিত কৃষি পণ্য মাচালং বাজার, উজো বাজার, বাঘাইহাট বাজার ও ভূয়ছড়ি গ্রাম্য বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

উপরন্তু করোনাভাইরাসের কারণে হাট-বাজার বন্ধ থাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রি করতে না পারাতে বিপাকে পড়েছেন ১৩০টি গ্রামের লোকজন। ঘরে বসে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

তবে সড়ক ও নৌপথের আশপাশের এলাকা ব্যতিত দুর্গমতার কারণে যুগ যুগ ধরে সাজেকের অধিকাংশ গ্রাম সরকারি-বেসরকারিভাবে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত।

বেটলিং এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য ডহেন্দ্র ত্রিপুরা জানায়, আমার ৮নং ওয়ার্ডে ১০টি গ্রামে ২৪৫টি পরিবার রয়েছে। তারা কেউ সরকারি বেসরকারি কোন ত্রাণ বা সহায়তা পাননি। তবে কিছুদিন আগে বেটলিং এলাকায় হামে আক্রান্ত ২০জন শিশুদের পরিবারের মাঝে ত্রাণ দেওয়া হয়।

সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা বলেন, সাজেকে প্রায় আট হাজার পরিবার রয়েছে তার মধ্যে দেড়শ পরিবারের মত রয়েছে উচ্চবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবার বাকি সবাই নিম্ন আয়ের হতদরিদ্র পরিবার। তাদের করোনাভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়েপড়া ৭-৮ শত পরিবারের মাঝে সরকারি বেসরকারি ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও ১৭৪ টি গ্রামের মাঝে ১৩০টি গ্রামে কোন ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি।

তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত সরকারিভাবে ৬মেট্রিক টন চাউল পেয়েছি এবং জেলা পরিষদ থেকে ১শত পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়। এছাড়াও জেলা পরিষদ থেকে আরো ৫মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ হয়েছে। শীঘ্রই সেগুলো পৌঁছাবে।

তবে এলাকার হতদরিদ্র পরিবার বেশি হওয়ায় চাহিদার তুলনায় স্বল্প ত্রাণ সহায়তা সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই জরুরী ভিত্তিতে সাজেকের ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধির জন্য প্রসাশনের মাধ্যমে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু বলেন, কর্মহীনদের সহায়তার জন্য প্রথম পর্যায়ের সমগ্র বাঘাইছড়ি উপজেলার জন্য ইতোমধ্যে ২৮ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তারমধ্যে সাজেক ইউনিয়নে ৬মেট্রিক টন চাউল পরিষদের মাধ্যমে ৬শত পরিবারকে বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকৃত কর্মহীন যারা ত্রাণ পাননি আমরা তাদের তালিকা করছি এবং জেলা প্রসাশনে তালিকা পাঠাচ্ছি, বরাদ্দ আসলে শীঘ্রই পর্যায়ক্রমে সবাইকে সহায়তা দেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: করোনাভাইরাস, ত্রাণ, সাজেক
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 − one =

আরও পড়ুন