রাঙামাটির বরকলে গণহত্যা:

সেই রাতের তাণ্ডবে নিঃস্ব ১৬০০ পরিবার, ৩৭ বছরেও মেলেনি বিচার

fec-image

দীর্ঘ ৩৭ বছর পার হলেও রাঙামাটি জেলার ভূষণছড়ায় সংঘটিত গণহত্যার বিচার হয়নি এখনও। এক রাতের তাণ্ডবে নিঃস্ব হওয়া ১৬০০ পরিবার পায়নি কোন ক্ষতিপূরণও। চার শতাধিক মানুষ হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত হয়নি কোনো মামলা। এদিকে নিহতের স্বজনরা ভূষণছড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে রোববার শোকসভা করেছেন। তারা খুনিদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গণকবরে গিয়ে আহাজারীও করতে দেখা গেছে স্বজন হারানো মানুষদের।

এক রাতে পরিবারের ১১ সদস্যকে হারানো নুরুন্নাহার বেগম বলেন, ‌‘১৯৮৪ সালের ৩১ মে আমার বয়স ছিলো মাত্র ৭ বছর। কিন্তু ওই রাতেই আমি মা বাবা বোনসহ পরিবারের ১১ সদস্যকে হারিয়েছি। বড় ভাই রমজান আলী ও আমি ছাড়া সেদিন আর বেঁচে ছিলো না কেউই। এই হত্যার বিচার চাই আমি। চাই ক্ষতিপূরণও।’

নুরুন্নাহার বেগম যখন এসব কথা বলছিলেন তখন কবরের পাশে কাাঁদছিলেন তার ভাই রমজান আলী। শুধু নুরুন্নাহার বেগম নন; শান্তিবাহিনীর আক্রমণে সেদিন স্বজনহারা হয়েছেন শাহজালাল, রাণী বেগমসহ শত শত মানুষ।

শোকসভা অনুষ্ঠানেও বক্তারা এই গণহত্যার বিচার দাবি করেন। ভূষণছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুয়েল রানা, থানার ওসি জসিম উদ্দিন ও স্বজন হারানো মানুষরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে চার শতাধিক মানুষ নিহত হলেও তখন কোনো মামলা হয়নি। কেবল একটি জিডি হয়েছে। নিহতদের স্বজনরাও সেভাবে ক্ষতিপূরণ পায়নি। সরকার এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিলে আমরা তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবো। পাহাড়ি-বাঙালিরা এখানে ভাইয়ের মতো থাকবে। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।’

সূত্র: সমকাল

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen − 4 =

আরও পড়ুন