“অবৈধভাবে উত্তোলিত এই সকল পাথর থেকে ১৩ লক্ষ পাথর অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে”
২৫ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা

১৮ লক্ষ ঘনফুট পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন ও পাচার

fec-image

বান্দরবান পার্বত্য জেলার ফাঁসিয়াখালীর কাঠালছড়া ও বনফুর এলাকা থেকে গত ১২ মাসে ১৮ লক্ষ ঘনফুট পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগে ২৫ জনকে আসামি করে লামা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান জেলার পরিদর্শক নাজনীন সুলতানা নিপা বাদী হয়ে পরিবেশ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আরো ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে ফাঁসিয়াখালীর কাঠালছড়া ও বনফুর এলাকার বিভিন্ন জলাধার, ঝিরি, ঝর্ণা ও খাল থেকে গত ১২ মাসে ১৮ লক্ষ ঘনফুট পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে মর্মে প্রমাণিত হয়েছে। অবৈধভাবে উত্তোলিত এই সকল পাথর থেকে ১৩ লক্ষ পাথর অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে। অবৈধভাবে উত্তোলিত আরো ৫ লক্ষ ঘনফুট পাথর পাচারের অপেক্ষায় রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা দুটি বৃহস্পতিবার(২০ জুন) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মামলার বনপুর এলাকার জন্য এজাহার নামীয় আসামীরা হলো- মো. মহিউদ্দিন (৪১), জামাল উদ্দিন ফকির (৫৫), হুমায়ন কবির (৫০), ওমর হামজা (৪৮), মনু মেম্বার (৫৫), মো. এনাম (৪০), মো. ফরহাদ (৪২), মুছলে উদ্দিন (৪৮) ও গিয়াস উদ্দিন (৪৫) ও অজ্ঞাতনামা ৬ জন। কাঠাল ছড়া এলাকার এজাহার নামীয় আসামীরা হল- ইউনুস সর্দার (৬৫), মনসুর ড্রাইভার (৫০), হোসেন ড্রাইভার (৩৫), মো. হামিদ (৩০), ইলিয়াছ (৩৫), অহিদ (৩৫), মো. মোস্তফা কামাল ছোট্টু (৪০), মো. মিজান (৩৫), নাজিম উদ্দিন মাষ্টার (৪৫), মুজিবুর রহমান (৪৮),  মো. মুমিন (৪০), লোকমান (৩৮), মো. ওসমান (৩৫), আনছার উদ্দিন (৩৬), রোমেশ (৩৩) ও মো. ইউসুফ (৩৩) ও অজ্ঞাতনামা ৬ জন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নাজনীন সুলতানা নীপা লামা থানায়।

পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান এর পরিদর্শক নাজনীন সুলতানা নীপা জানান, এজহারে বর্ণিত আসামীরা পার্বত্য লামা উপজেলার পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তদন্ত করে অন্যান্য অপরাধীরের আইনের আওতায় আনা হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারী পরিচালক একেএম ছামিউল আলম কুরসি বলেন, মামলার কার্যক্রম চলমান থাকবে। আগামীতে আরো কেউ যদি অবৈধ পাথর উত্তোলন ও পাচারের সাথে জড়িত হয় জানা গেলে তাদের বিরুদ্ধেও পরিবেশ আইনে মামলা করা হবে।

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি জানান, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে পরিবেশের ক্ষতিকারকদের কোন ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + eighteen =

আরও পড়ুন