৪২ বছর যাবত জাতীয় পতাকা তৈরী করে সংসার চালাচ্ছে খাগড়াছড়ির নুরুল আলম চৌধুরী

IMG_5080

জেলা প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি ॥
১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। এ দিবসটি আবারও ফিরে আসবে আমাদের মাঝে ২০১৪ সালের একই দিনে। দিবসটি সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠন সমূহ নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালন করে আসছে। বিশেষ করে সরকার এ দিবসটিতে যথাযথভাবে পতাকা উত্তোলনের  বিষয়টিতে গুরত্ব দিয়ে থাকে। সকল প্রকার অফিস আদালতসহ সর্বপ্রকার প্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন বাধ্যমূলক। এছাড়া এ দিবসে বিভিন্ন এতিমখানা, জেলখানাসহ অনাথ আশ্রমে ভাল খাবারও পরিবেশন করা হয়। অথচ যাদের দ্বারা এ পতাকা যথাযথ পরিমাপ ও গুরুত্ব দিয়ে তৈরী হয় তাদের নিয়ে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে কোন সংগঠন এগিয়ে আসে না। যেমনি আসেনি সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাহায্য সহযোগিতা স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় পতাকা তৈরী কারিগর খাগড়াছড়ির নুরুল আলম চৌধুরীর ক্ষেত্রে।

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিনে পতাকা-কারিগরটি পতাকা বিক্রি করেছে ধুমছে। ক্রেতাদের চরম ভীড় ছিল। বিশেষ করে শিশুরাও ছোট আকারের পতাকা ক্রয়ে ভীড় জমিয়েছিল। লক্ষ্য করে দেখা গেল, ক্রেতাদের মাঝে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও নীরবে কাঁদছে বিজয়ের মাসে এ পতাকা তৈরীর কারিগর। তার চোখের পানি পড়তে দেখে, কারণ জানতে গিয়ে জানা গেল হৃদয়বিদারক কাহিনী।

নুরুল আলম পার্বত্যনিউজকে জানান, যুদ্ধের পর থেকে শখ করে জাতীয় পতাকা তৈরী করত তার বড় ভাই । এক সময় থেকে এ পতাকা তৈরীই তার ভাইয়ের জীবনে  নিয়মিত পেশা হয়ে দাঁড়ায়। বড় ভাইয়ের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়া নুরুল আলম চৌধুরী ভাইয়ের মৃত্যুর পর দীর্ঘ ৪২ বছর যাবত জাতীয় পতাকা তৈরী করে সংসার চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, যুদ্ধের সময় আমি যুবক ছিলাম, যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও অবহেলা  করে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট না নেওয়ায় আফসোস ছাড়া তার আর এখন কিছুই নাই। ৩ ছেলে ১ মেয়ের সংসার নিয়ে জেলা সদরের কলাবাগানে বসবাস করে। দীর্ঘ ৮-৯ যাবত তার স্ত্রী প্যারালাইসিস রোগে ভুগছে। আর্থিক অনটনের কারনে চিকিৎসা করাতে পারছে না। ইতোমধ্যে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এ কারিগর। 

খাগড়াছড়ি জেলা শহরের আদালত সড়কের গলির মধ্যে ছোট আকারের তার দোকান রয়েছে। যেখানে সাজানো থাকে লাল সবুজের বির্ভিন্ন সাইজের জাতীয় পতাকা। বিজয় দিবস আসলে সরকার কত অর্থ, কত কর্মসূচী হাতে নেয়, কিন্তু জাতীয় পতাকা তৈরী কারিগরদের নিয়ে কিছুই  করে না।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন