‘অপরাধে যারা সম্পৃক্ত তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা’


কক্সবাজারের পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ ও উন্নত সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়তে পুলিশ নিরলস ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দেশের জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় পুলিশ নিজের জীবন বাজি রেখে নির্বিঘ্নে কাজ করছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে অপরাধ দমনে প্রয়োজন সবার সচেতনতা ও টেকসই নিরাপত্তা। এলাকায় যারা মাদককারবারী, অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, গরুচোর, দখলবাজ ও জুয়াড়ি রয়েছে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) বিকালে চকরিয়া থানা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলার বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে সন্ত্রাস, মাদক, জুূয়া, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বিট পুলিশিং সভা উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত এসব কথা বলেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ওসমান গনি’র সভাপতিত্বে ও মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবদুল জব্বারের সঞ্চলানায় বিট পুলিশিং অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কক্সবাজার সহকারি পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) তফিকুল আলম, বিএমচর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, পূর্ব বড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান ফারহানা আফরিন মুন্না।
পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান আরও বলেন, মানুষকে এখন আগের মতো ভোগান্তি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না। বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আমরাই মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে সেবা পৌঁছে দেবো। মানুষের সমস্যা জানার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বে থাকা সুনির্দিষ্ট বিট পুলিশিং অফিসার তা নিরসন করবেন। বিট পুলিশ কার্যক্রমের সেবা নিশ্চিতে এবং এলাকার অপরাধ প্রবণতা নির্মূলে পুলিশ ও জনতার সহযোগিতার বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, এ সমাজ পরিবর্তন করতে প্রয়োজন সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সহযোগিতা। জনগণের সহযোগীতা ছাড়া শুধু আইন প্রয়োগ করে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং মতো অপরাধ দমন করা যায় না। পুলিশ আগের অবস্থানে নেই, পুলিশের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখনো পর্যন্ত যারা মাদক, চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাসী, দখলবাজি কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রয়েছে তাদের কঠোর ভাবে শাস্তির আওতায় আনা হবে এবং কোন ধরণের ছাড় দেয়া হবে না। ‘বিট পুলিশিং বাড়ি বাড়ি, নিরাপদ সমাজ গড়ি ‘ এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে পুলিশ জনগণের বন্ধু ও সেবক এই কথা গুলো তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবে প্রমাণ করতে বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে জোরদার করা হয়েছে।
বাল্য বিবাহের ব্যাপারে পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান বলেন, বর্তমানে এটি মারাত্মক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এ থেকে উত্তোরণে সকলকে একযুগে কাজ করতে হবে। বাল্য বিবাহের ব্যাপারে সজাগ না হলে নারী শিক্ষার হার হ্রাস, স্কুল থেকে ঝড়ে পড়ার হার বৃদ্ধিসহ নারীদের নানাবিধ নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাল্য বিবাহের পাশাপাশি ইভটিজিং প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে। স্কুল ও কলেজ ছাত্রীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়তে কিছু বখাটে যুবক মুখে শিসবাজিয়ে উত্ত্যাক্ত করে থাকে। এ ব্যাপরে সকলস্তরের ব্যাক্তিকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করে এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে।
এছাড়াও বিট পুলিশিং কার্যক্রমের আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক এম আর মাহমুদ, বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।

















