আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত বালু বনের নিচু স্থানে মেশানো শুরু করলো পেকুয়া বনবিভাগ


আদালতের নিদের্শে কক্সবাজারের পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনভূমিতে জব্দ করা চার লাখ ঘনফুট বালু নানা নাটকীয়তা শেষে বনের নিচু জায়গায় মেশানোর কাজ শুরু করলো বনবিভাগ। সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।
বুধবার (৫ জুন) সকাল ৮ থেকে থানা পুলিশ ও বনবিভাগের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে এ কাজ শুরু করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ।
বনবিভাগ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের টৈটং বনবিটের মধুখালি এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমিতে বনদস্যুরা গোপনে পাহাড় ভেঙে বালু মজুত করেছিলো। বিষয়টি নজরে এলে এসব বালু জব্দ করে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেন বনবিভাগ।
২০২৩ সালের (২৫ মে) টৈটং বনবিটের ১৭নং মামলা মূলে চার লক্ষ ছয় হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করেছিল বিট কর্মকর্তা জমির উদ্দীন। দীর্ঘ দিন ধরে ঐ জব্দকৃত বালু জব্দকৃত স্থানে ছিল। কিন্ত গত ২৭ মার্চ ইউএনও সাইফুল ইসলাম সংরক্ষিত বনভূমিতে অনুপ্রবেশ করে বনবিভাগের জব্দ করা বালু ফের জব্দ দেখিয়ে নিলামে বিক্রির অপচেষ্টা চালান। ফলে বনবিভাগ এ নিয়ে আদালতে আশ্রয় নেয়। আদালত বনবিভাগের আবেদন আমলে নিয়ে ওই জব্দকৃত বালু বনে মিশিয়ে দিতে নিদের্শ দেয়। ওই নিদের্শে বনবিভাগ কাজ শুরু করলে
গত ৮ মে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান ফরায়জী বাদী হয়ে ওই জব্দকৃত বালু মহালের দাবী করে আদালতে আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযান স্থগিত করে আদালত। আবার শুনানি শেষে ২৯ মে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জাহিদ হোসাইন এ আদেশ পুনঃ বহাল করেন। একইসাথে আগামী ২০ দিনের মধ্যে এসব বালু বনে মিশিয়ে তার উপর গাছের চারা রোপণের নির্দেশ দেন। এতে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য চকরিয়া ও পেকুয়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়। সেই প্রেক্ষিতে কাজ শুরু করছে বনবিভাগ।
এ বিষয়ে সহকারী বন সংরক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আদালত অভিযান স্থগিত করে বালুর স্তুপের জমির মালিকানা নির্ণয়ের জন্য পেকুয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমিকে নির্দেশ দেন। তার প্রতিবেদন দাখিলের পরে বনবিভাগের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আদেশ পুনঃবহাল করেন। অবৈধভাবে বনে মজুদ করা বালু বনেই মিশিয়ে দিচ্ছি। তারপর এর উপর বনায়ন করা হবে।

















