আবারো পাহাড় কাটছেন বিএনপি নেতা


দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিন। পাওয়ার গ্রীড নির্মাণের জায়গায় ভরাট করতে আবারো পাহাড় কাটছেন তিনি। দিনদুপুরে পাহাড় কেটে চলছে মাটি সরবরাহ। এর আগেও বহুবার জরিমানা ও মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তারপর আবারো পাহাড় কাটার সংক্রিয় হয়ে উঠেছেন এই নেতা। সহনীয় পর্যায়ে মামলা ও জরিমানা করার কারণে বন্ধ হচ্ছে না পাহাড় কাটা।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা যুবদলে সদস্য নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটা হচ্ছে। মাসখানেক আগেও থোয়াইগ্য পাড়া, চড়ুইপাড়া, লেমুঝিড়ি, কুহালং বেশ কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশ ঘেঁষেই এই নেতারা মিলেমিশে পাহাড় কাটা কেটেছেন।
কয়েক দিন আগেও পাহাড় কাটার স্থানে সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ করা হয়েছিল। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজনসহ একটি ট্রাক আটক করা হয়। এছাড়া পাহাড় কাটার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার জরিমানা করেছে। তবুও এই নেতা আইনকে তোয়াক্কা করেন না। বরং আরো পাহাড় কাটায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের বাকিছড়া নতুনপাড়া নামক এলাকায় টিন দিয়ে ঘিরে ভেতরে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব। সেখানে গহীনে একটি পাহাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। ব্যবহার করা হয়েছে স্কেভেটর ও মাটি সরবরাহ করতে চারটি টিএস ট্রাক।
সেই মাটি ফেলা হচ্ছে সেই আগের পাওয়ার গ্রীড নির্মাণের জায়গায়। এর ফলে মাটির গাড়ি চলাচল করায় সড়ক জুড়ে মাটি পড়ে পিচ্ছিল সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া পাহাড় কাটার স্থানে সড়কের পাশে পাহারাদার রয়েছেন নাজিমের উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন মানুষ। শুধু সেখানে নই প্রতি মোড়ে আর ব্রিজের সবদিকে নজরদারি করছে তার দলের অনুসারীরা।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক বাকিছড়ার এক বাসিন্দা বলেন, বাকিছড়া নতুনপাড়া মসজিদ ভেতর থেকে পাহাড় কাটছেন নাজিম উদ্দিন। সকাল থেকে সড়ক দিয়ে চারটি মাধ্যমে মাটি সরবরাহ করছেন।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য নাজিম উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বাকিছড়া মসজিদ ভেতর টিনের বেড়া থেকে মাটি কেটে পাওয়ার গ্রীডের জায়গায় মাটি ভরাট করা হচ্ছে বলে স্বীকার করেন। বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটতে জেলা প্রশাসক অনুমোদন দিয়েছেন। আপনি পারলে জেলা প্রশাসক সাথে কথা বলেন।
বিএনপি নেতা বলেন, আমার জন্য কী করতে পারবেন আর আপনার জন্য কী করা লাগবে? আর আপনার সাথে সন্ধ্যায় দেখা করব, যা করার লাগে আপনাকে করব।
পরিবেশ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, গতবারে পাহাড় কাটা দায়ের তাকে জরিমানা করা হয়েছে। আবারো যদি নতুন করে পাহাড় কাটে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পাহাড় কাটা অনুমতি দিয়েছেন কি না প্রশ্ন করা হলে জেলা প্রশাসক শামিম আরা রিনি বলেন, তাকে পাহাড় কাটার জন্য প্রশাসন থেকে কেনো অনুমতি দেয়া হয়নি। বরং পাহাড় কাটার দায়ে ইউএনও তাকে জরিমানা করেছেন। আবারো যদি পাহাড় কাটার শুরু করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

















