কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: তরুণরাই মূল ফ্যাক্টর
স্টাফ রিপোর্টার:
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন জমে উঠেছে। প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ভোট প্রার্থনায়। চায়ের কাপ ও ভাতের প্লেটেও ঝড় তুলেছে রায় প্রত্যাশীরা। তবে এবারের নির্বাচনে তরুণ আইনজীবীরাই মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব তরুণ আইনজীবীদের যারাই আকর্ষণ করতে পারবে মূলতঃ তারাই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জেলা আইনজীবী সমিতিতে ২৪৮ জন তরুণ সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তরুণ আইনজীবী দল বা প্যানেল চেনেন না। যোগ্যতা বিচারেই রায় দেয়ার কথা জানান তারা।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বহু কাঙ্ক্ষিত ও প্রতীক্ষিত এ নির্বাচন। এতে সভাপতি সাধারণ ও সম্পাদকসহ ৯ টি সম্পাদকীয় এবং ৯টি সদস্য পদে ৫৯০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। সকাল ৯ টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।
এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হাসানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর ৪ সদস্য হলেন- যথাক্রমে আইনজীবী শ্যামল কান্তি চৌধুরী, মোঃ নুরুল হুদা, রাশেদুল ইসলাম ও ফরিদ আহমদ।
আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতিতে বর্তমানে প্রায় ৬৫০ জন আইনজীবী সদস্য রয়েছেন। তবে এবারের নির্বাচনে ভোটার হয়েছেন মোট ৫৯০জন আইনজীবী। নির্ধারিত সময়ে সদস্য চাঁদা আদায় করে ওই ৫৯০জন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন চূড়ান্তভাবে।
এবারের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী, ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী ও সমমনা বিজ্ঞ আইনজীবীদের মনোনীত প্যানেলে সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন বর্তমান সভাপতি ছৈয়দ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে গতবারের নির্বাচনে মাত্র দুই ভোটে বিজিত গোলাম ফারুক খান কায়সার।
প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে নুরুল মোর্শেদ আমিন, মোহাম্মদ আবু তাহের-২, সহ-সাধারণ সম্পাদক (সাধারণ) পদে মোহাম্মদ এসতেফাজুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক (হিসাব) পদে আমিন উদ্দিন, পাঠাগার সম্পাদক পদে মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, আপ্যায়ন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নুরুল আজিম। সদস্য পদে রমিজ আহমদ, একেএম আতাউল হক, আকতার উদ্দিন হেলালী, মোহাম্মদ দেলোয়ার আলম, মোঃ জাফর উল্লাহ ইসলামাবাদী, মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোঃ রাশেদ, রশিদুল আলম চৌধুরী ও সৈয়দ ইরফান।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্যানেল সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী একে আহমদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম মঈনুদ্দিন।
এই প্যানেলে সহ-সভাপতি পদে মোঃ সেলিম নেওয়াজ, নুরুল আমিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (সাধারণ) পদে জসীম উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (হিসাব) পদে শরীফ উদ্দীন টিপু, পাঠাগার সম্পাদক পদে রুহুল আমিন চৌধুরী রাসেল, আপ্যায়ন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মোঃ শামসুল হক। সদস্য পদে আবুল কাশেম-২, মাহবুবুর রহমান, মোঃ বদিউল আলম সিকদার, মোঃ জাকারিয়া, মোঃ নুরুল আজিম, আবুল কালাম আজাদ-৬, আহমদ, মোঃ ইউছুফ ও নাহিদ হোসেন।
অপরদিকে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্যানেলের প্রার্থী নির্বাচন পদ্ধতিতে আপত্তি জানিয়ে স্বতন্ত্রভাবে সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন জেলা আওয়ামীলী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক নুরুল ইসলাম। দুই প্যানেলের বাইরে গিয়ে তিনি একাই লড়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি প্যানেলের বাইরে থেকে নির্বাচন করলেও তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি ভাবছেন অনেকেই। সব মিলিয়ে নির্বাচনে ত্রি-মুখি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আইনজীবী পেশায় দলীয় পরিচয় নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এখানে দলের সাথে বিদ্রোহ করার কিছুই নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি, সেটি ঠিক। দলীয়ভাবে প্রার্থীতা ঠিক করার বৈঠকে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয় নি। আমি নবীন-প্রবীণ আইনজীবীদের মনোনীত প্রার্থী। যারা ‘প্রগতিশীল’ সাইনেবোর্ড বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আইনজীবীরাই ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবেন।’
নির্বাচনের হাওয়ার কথা জানতে চাইলে অ্যাড. আব্দুর রহিম জানান, সকল প্রার্থী শক্ত ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছেন। কাউকে দুর্বল ভাবা দায়। তবে সভাপতি পদে ত্রিমুখি লড়াই হওয়ার আভাস দেন তিনি।
শফিকুর রহমান নামে আরেক তরুণ আইনজীবী বলেন, ‘নির্বাচিত হয়ে যারা পদবী ব্যবহার করে মামলা নিয়ে কাড়াকাড়ি এবং জুনিয়রদের মূল্যায়ন করেনা, ওইসব প্রার্থীদের আমরা বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দল বা প্যানেল দেখে নয়, যোগ্যতার বিচারে আমরা ভোট দেব।’ তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচনে তরুণ আইনজীবীরাই মূল ফ্যাক্টর। তরুণদের ভোট ব্যাংক যারা ভাঙতে পারবে তারাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতীয়তাবাদী, ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী ও সমমনা বিজ্ঞ আইনজীবীদের মনোনীত প্যানেলে সভাপতি পদপ্রার্থী ছৈয়দ আলম বলেন, ‘অতীতে আইনজীবীদের দুঃসময়ে কেউ ছিলনা। আমি সভাপতি নির্বাচিত হয়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বার ও বেঞ্চের সমন্বয়সাধন করে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করি। তাছাড়া বিচারকের শূন্যতা ৮০ শতাংশ পূরণ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমার দায়িত্বকালীন সময়ে কোন আইনজীবী মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলার শিকার হয় নি। সমিতিকে গুছালো ও সদস্যদের অর্থ নিরাপদ রাখতে কাজ করেছি। আইনাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সর্বদা সোচ্ছার থেকেছি। জেলা জজ কার্যালয়ে আইনজীবীদের সুবিধার্থে সুপরিসর মিলনায়তন ব্যবস্থা করেছি। আগামীতে এ ধারা অক্ষুন্ন রাখতে চাই।’
আগামী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ছৈয়দ আলম বলেন, ‘প্রবীণ আইনজীবীদের নিয়ে নতুনদের জন্য কর্মশালার ব্যবস্থা, সর্বসাধারণের সুবিধার্থে গণশৌচাগার প্রতিষ্ঠা এবং জেলা জজশীপ ভবনের দু’তলার সাথে ‘ওভার সিঁড়ি’র ব্যবস্থা করব।’ এ ছাড়া আইনজীবী সমিতির সার্বিক উন্নতির জন্য যখন যা করার, তখন তাই করবেন বলেও জানান তিনি।
সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্যানেল থেকে সভাপতি পদপ্রার্থী অ্যাড. একে আহমদ হোসেন বলেন, ‘আমার ৪১ বছরের আইন পেশায় কোন খারাপ রেকর্ড নেই। আইনজীবীদের সর্বোচ্চ সম্মানে কিভাবে কাজ করা দরকার তা আমার জানা আছে।’ তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ের নেতাদের দুর্বলতা ও অযোগ্যতায় জেলা বারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা অনুদানের টাকা আনতে পারে নি। ব্যক্তিগত ক্ষমতা বলে ওই অনুদানের টাকা আমি আদায় করতে পারব। সভাপতি নির্বাচিত হলে আইনজীবীদের চেম্বার ও বসার ব্যবস্থাসহ সর্বধরণের সুবিধা নিশ্চিত করতে পারব।’

















