খাগড়াছড়িতে রবি সেবা বন্ধ : নেপথ্যে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী

Robi Pic

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট :

পাহাড়ী সংগঠনের মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবীর কারণে খাগড়াছড়িতে বন্ধ রয়েছে মোবাইল ফোন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রবি‘র সবধরনের কার্যক্রম। সংশ্লিষ্ট একটি সুত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ির পরিবেশক ও নতুন ১২ টাওয়ার স্থাপনে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবী করায় গত এক সপ্তাহ ধরে সব ধরনের গ্রাহক সেবা ও বাজার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় স্থানীয় পরিবেশক। ফলে চরম ভোগান্তিসহ বিপাকে পড়েছে স্থানীয় রবি গ্রাহক ও রিটেইলররা। তবে চাঁদাবাজদের ভয়ে কোন পক্ষই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নয়।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি আঞ্চলিক পাহাড়ী সংগঠন রবি’র স্থানীয় পরিবেশকের কাছে বাৎসরিক হিসেবে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না পেলে তার লোকজনকে অপহরণের হুমকিও দেয়া হয় চাঁদা দাবীকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে। সুত্র মতে, দীঘিনালা, পানছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলায় পরিবেশকের মাঠকর্মীদের হুমকি দেয়া হয়েছে বলে।

সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নতুন করে ১২টি টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে মোবাইল ফোন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রবি। রবি’র টাওয়ার নির্মাণকারী একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, নতুন ১২ টাওয়ারের কাজ শুরু করলেই তারা আপত্তি প্রদান করেন। চাঁদা দাবিকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে টাওয়ার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে টাওয়ার প্রতি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দেয়া না হলে রবি’র সব ধরনের কার্যক্রমে অসহযোগিতা করা হবে জানিয়ে তারা বলেছে, রবি অপারেটর নেটওয়ার্ক চালু’র শুরু থেকে অনেকগুলো টাওয়ার নির্মাণ করলেও দাবিকৃত চাঁদা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতারণা করেছে কম্পানীটি।

খাগড়াছড়ি সদরের একাধিক রিটেইলার জানান, গত সপ্তাহ খানেক ধরে স্থানীয় পরিবেশক আমাদের কাছে টাকা সরবরাহ করছে না। এতে ব্যবসায় চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

স্থানীয় পরিবেশক মেসার্স লিয়াকত ব্রাদার্স’র স্বত্বাধিকারী মো. লিয়াকত আলী জানান, তিনি রবি কোম্পানি থেকে মানি সার্ভিস পাচ্ছেন না। তাই তার পক্ষেও রিটেইলারদেরকে রিচার্জের টাকা সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি চাঁদা দাবির বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

এদিকে মোবাইল ফোন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রবি’র কারিগরী সার্ভিস সেন্টারের একজন কর্মকর্তা নিজের নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, স্থানীয় পরিবেশকের নির্দেশেই সকল রবি সেবার সকল প্রকার কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র এক সপ্তাহ ধরে রবি’র কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়ে তারা অবগত আছে উল্লেখ করে জানান এ বিষয়ে পরিবেশক বা কোনো পক্ষই কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেননি।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে তিন পার্বত্য জেলায় মোবাইল নের্টওয়ার্ক চালুর পর থেকে চাঁদার দাবিতে একাধিকবার মোবাইল ফোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অপহরণ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের জুলাই মাসে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বারিবিন্দুঘাট এলাকা থেকে টেলিটকের ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের ১৮ দিন পর নানা নাটকীয়তার পর তাদের উদ্ধার করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন