চকরিয়ায় বসতঘর পুড়িয়ে ভিটে দখল মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে নিরহ পরিবার


কক্সবাজারের চকরিয়ায় নিরহ একটি পরিবারকে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার আগে ওই পরিবারের বসতঘর পুড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পক্ষ। বর্তমানে ওই বসতভিটায় নতুন ঘর নির্মাণ করছেন তারা। তাই ঘরবাড়ি হারিয়ে মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে পুরো পরিবারটি।
এ ধরণের অভিযোগ তুলেছেন চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের মৃত আহমদ হোসেনের ছেলে কৃষক আবুল কাশেম।
ভুক্তভোগী কৃষক আবুল কাশেম (৭০) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার বসতবাড়ি জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল স্থানীয় প্রভাবশালী ছৈয়দ আহমদ। ছেলে ও ভাইদের নিয়ে সে অনেকবার আমাকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্প্রতিবার (৫ মার্চ ) রাত ১২টার দিকে ছৈয়দ আহমদ, তার ছেলে ইউনুছ, ইব্রাহিম, মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে আব্দু ছবুর, ছৈয়দ আহমদের ভাই মো. সেলিম, তার ছেলে তৌহিদুল ইসলাম, মহিবুল্লাহ, ইব্রাহিমের স্ত্রী মিশু, ছৈয়দ আহমদের মেয়ে নারগিস, কহিনুর আক্তার, নিলুফা, মোঃ সেলিমের মেয়ে সাহিদা, শারমিন, উম্মে হাবিবা, স্ত্রী নাছিমা ও ছৈয়দ আহমদের স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম দলবেঁধে আমার বসতবাড়িতে প্রবেশ করে।
দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা আমাদের হত্যার হুমকি দিয়ে জিম্মি করে ফেলে। এসময় তারা কেরোসিন ছিটিয়ে আমার বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনের শিখা দেখে এলাকাবাসী ছুটে এলে তারা তাদেরকেও মারতে উদ্যত হয়।
পরে এলাকাবাসীরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে আগুন নেভায়। ততক্ষণে আমার বসতবাড়ি ছাই হয়ে যায়। এতে আমার অন্তত দশ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার বিচার দাবিতে আমি চকরিয়া থানায় এজাহার দায়ের করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমার এজাহার গ্রহণ করেনি। উল্টো আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মারধরের একটি মিথ্যা মামলা রুজু করে।
ছৈয়দ আহমদের ছেলে মোঃ ইউনুছ বাদি হয়ে দায়ের করা এ মামলায় আমার স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই পুত্রবধু, এক মেয়ে ও অপর এক নিকটাত্মীয়সহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাই এ মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে এখন পুরো পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
তদন্ত পূর্বক এ ঘটনায় জড়িতদের আমি বিচার দাবি করছি। পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে আমি আজ পথে পথে ঘুরছি।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো.হাবিবুর রহমান স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, আবুল কাশেমের দায়েরকৃত অভিযোগ তদন্ত করে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তাই তার দেয়া অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।
মোঃ ইউনুছের অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে বিধায় তার মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তাদের দুইপক্ষের মাঝে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা যাতে বিনষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।

















