চাঁদা না পেয়ে ৭ হাজার আগরগাছ নিধন করেছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা

Ramgarh 4-02-15
রামগড় প্রতিনিধি :

চাঁদার টাকা না পাওয়ায় রামগড়ে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানে প্রায় ৭ হাজার আগর গাছের চারা কেটে ফেলেছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার ফটিকছড়ির সীমান্তবর্তী দুর্গম বালুখালী নামক এলাকায় আব্দুল আজিজ সওদাগরের বাগানে সন্ত্রাসীরা বৃক্ষ নিধনযজ্ঞ চালায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরাই চাঁদার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সূত্র জানায়, বাগান মালিক আবদুল আজিজ সওদাগর ঐ সন্ত্রাসী গ্রুপটির দাবি অনুযায়ী চাঁদার টাকা না দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ কাজ করে। এতগুলো গাছের চারা একসাথে কেটে ফেলায় অনেকটা হতবিহবল হয়ে পড়েছেন বাগানের মালিক আজিজ। চারাগুলোর বয়স সাত বছর হয়েছে বলে জানান তিনি।

পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী নুরুল আলম(আলমগীর) জানান, বালুখালী এলাকায় আগর বাগান কাটার খবর পেয়ে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা চাঁদার জন্য প্রায়ই ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানের মূল্যবান গাছ কেটে দিচ্ছে। এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা না নেয়ায় এরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এভাবে মূল্যবান গাছ পালা কেটে দেয়ার কারণে বাগান মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নতুন করে বাগান সৃজনে কেউ এখন উদ্যোগ নিচ্ছে না।

সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ১০ একর পাহাড়ি টিলার উপর অবস্থিত বিশাল বাগানের আকাশ মণি ও গামারি প্রজাতির গাছের নীচে রোপন করা হয়েছিল এসব মূল্যবান আগর গাছ। গত সাত বছর থেকে এগুলো পরিচর্যা করে আসছিলেন বাগানের মালিক।

তিনি জানান, বুধবার সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মত শ্রমিক নিয়ে কাজ করানোর জন্য গিয়েছিলেন বাগানে। বাগানে গিয়ে দেখেন তার সবগুলো আগর গাছই কেটে ফেলে রেখেছে দুবৃর্ত্তরা। এসময় তিনি অনেকটা বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। প্রায় ৭ হাজার আগর গাছ কেটে দেয় সন্ত্রাসীরা। প্রতিটি গাছের মূল্য সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা বলে জানান তিনি।

স্থানীয় পাতাছড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আমান উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে তিনি বাগানে গিয়ে ঘটনা পরিদর্শন করেন। পাহাড়ি সন্ত্রাসীদেরকে টাকা না দেয়ায় তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি তাঁর।

এদিকে খবর পেয়ে রামগড় ১৬ ব্যাটালিয়নের খাগড়াবিল ক্যাম্পের বিজিবি কমান্ডার সুবেদার সামশুদ্দিন টহল ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন