টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানববন্ধন

fec-image

​কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলমান খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং নতুন বিতরণ ক্যাটাগরি পদ্ধতিতে না দিয়ে ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে নয়াপাড়া নিবন্ধিত ও আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কয়েক শত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। বর্তমানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) প্রস্তাবিত গত ১ লা এপ্রিল থেকে নতুন খাদ্য বিতরণ পদ্ধতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে এ অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যার প্রতিবাদেই তারা মানববন্ধনে সমবেত হন।

​মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গারা জানান, ১৯৯১-৯২ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত তারা নিয়মিতভাবে খাদ্য সহায়তা পেয়ে আসছেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে এই খাদ্য সহায়তা তাদের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। গত মার্চ মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত সকল রোহিঙ্গাদের একই ক্যাটাগরিতে ডলার নিজস্ব সিমকার্ডে বরাদ্দ হতো। কিন্তু হঠাৎ করে ১ লা এপ্রিল থেকে তিন ক্যাটাগরিতে মাথাপিছু সিমকার্ডে ডলার জমা হচ্ছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-১ এ ‘যে ফ্যামিলীতে ২ জন পঙ্গু, পরিবারের সব সদস্য শিশু বয়স ১৮ নিচে, সব সদস্য মহিলা, তারা ১২ ডলার পাবে’। ক্যাটাগরি-২ এ পরিবারে ১ জন পঙ্গু থাকলে ১০ ডলার এবং ক্যাটাগরি- ৩ এ কর্মক্ষম পুরুষ প্রধান পরিবার, কোন পঙ্গু নাই তাহলে ৭ ডলার করে পাবে’ বলে জানা গেছে । এমন সিদ্ধান্তে রোহিঙ্গারা বৈষম্যের শিকার ও অসন্তোষ প্রকাশ করে রেশন বা খাদ্য না নিয়ে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানায়।
রোহিঙ্গা প্রতিনিধি বজলুর রহমান বলেন, কয়েক বছর ধরে একই পদ্ধতিতে চলে আসা এই ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই তাদের জীবনযাত্রা পরিচালিত হচ্ছে, তাই কোনোভাবেই এই সহায়তায় ক্যাটাগরি পদ্ধতি ঘটানো যাবে না।

​নতুন প্রস্তাবিত এ পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতিতে যদি সমঅধিকার ও ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা না হয়, তবে তা মানবাধিকারের চরম পরিপন্থী হতে পারে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, খাদ্য সহায়তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য তারা মেনে নেবেন না এবং আগের মতোই সমান ও ন্যায্য হিস্যা বজায় রাখার দাবি জানান।

​রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে চলমান এই অস্থিরতার বিষয়ে টেকনাফ ২৪, ২৬ ও ২৭ নং ক্যাম্প ইনচার্জ খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান গণমাধ্যমকে জানান, রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দাবি ও মানববন্ধনের বিষয়টি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ পূর্ণ অবগত রয়েছে। তাদের দাবিদাওয়াগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

​মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা দাবি করেন, খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় এবং বিতরণের ক্ষেত্রে যেন স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় থাকে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে তাদের জীবনধারণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: টেকনাফ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন