ডক্টর এম শমশের আলীকে দেশ মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে

fec-image

বাংলাদেশের আরো একজন উপেক্ষিত ও অবহেলিত নায়ক প্রফেসর ডক্টর এম শমশের আলী বিদায় নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিলেন।

বাংলাদেশে বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম শীর্ষ অগ্রপথিক ছিলেন। যে মেধা ও যোগ্যতা তার ছিল এই দেশ যেমন তার ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে, তেমনি তাকে মূল্যায়ন করতেও ব্যর্থ হয়েছে।

১৯৫৯ সালে শ্রেষ্ঠত্বের সাথে অনার্স এবং ১৯৬০ সালে এম. এস. সি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬১ সালে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেন এবং ১৯৬৫ সালে সেই ম্যানচেস্টার থেকেই থিওরেটিক্যাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স বিষয়ে পি. এইচ. ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।দেশের জন্য কাজ করব এই নীতি নিয়ে যদি তিনি ফিরে না আসতেন আজকে বিশ্বব্যাপী তার নাম থাকতে পারতো। ক্ষমতার নানা লোভ ও অফার তাকে টানতে পারেনি।

তবে কেবল বিজ্ঞান চর্চা নয়, ইসলামিক জ্ঞানেও তিনি ছিলেন অতি উচ্চমানের একজন আলিম। বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান ও আধুনিকতার সাথে ইসলামকে সংমিশ্রণ করে যারা মুসলিম সমাজকে এগিয়ে নিয়েছেন তাদের মধ্যে তিনি শীর্ষে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর সাথে তিনি অসাধারণ কিছু কাজ করেছেন।

একসময় দৈনিক ইনকিলাবে নিয়মিত লিখতেন এবং সেই সূত্রে তার সাথে পরিচয় এবং অনেক আলাপ হত। সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর থাকাকালে তার অফিসে গিয়েছি কয়েকবার। এত বড় মানুষ কখনো বুঝতে দেননি। ছাত্রের মত বসিয়ে অনেক কথা বলতেন আমি মুগ্ধ শুনেছি।

আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাথে তার গভীর বন্ধুত্ব ছিল। পাকিস্তান আণবিক কমিশনের একসাথে চাকরি করেছেন দীর্ঘদিন, সেই সুবাদে পারিবারিক সম্পর্ক হয়েছিল। দুইবার তাঁর ও ড. ওয়াজেদ মিয়ার ব্যক্তিগত আলাপচারিতার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম অনাহুতভাবে। সেখানে আমি ছাড়া আরো কয়েকজন ছিল। সেই আলোচনার বেশিরভাগটাই ছিল ড. ওয়াজেদ সাহেব ও শেখ হাসিনার পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে।

তিনি (ড. ওয়াজেদ) যেকোনো কারণেই হোক শেখ হাসিনার প্রতি অত্যন্ত রুষ্ঠ ছিলেন এবং খোলামেলা শেখ হাসিনার সমালোচনা করছিলেন। ড. শমসের আলী মৃদু হেসে তাকে থামানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তিনি তার সমালোচনায় অনেকটাই বেপরোয়া ছিলেন।

মহান আল্লাহ এই গুণী মানুষকে জান্নাত নসিব করুন।

উৎস : সাংবাদিক ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশের ফেইসবুক পোস্ট, ৩ আগস্ট ২০২৫

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন