ত্রিপুরার বিকৃত ইতিহাস নিয়েই রাজনৈতিক নোংরামি চলছে দীর্ঘ ৫ যুগ ধরে

fec-image

ত্রিপুরার ইতিহাস বিকৃত এবং এই বিকৃত ইতিহাস নিয়েই যত রাজনৈতিক নোংরামি খেলা চলছে দীর্ঘ ৫০-৬০ বছর ধরে। এর পরিসমাপ্তি দরকার এবং সত্যিকারের ইতিহাসের পুনরুদ্ধার দরকার। সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই এখানে বাঙালিরা বসবাস করে আসছে এবং বাঙালিরাই একমাত্র ভূমিপুত্র এই অঞ্চলের। তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দী থেকে ১৩০০( ত্রয়োদশ শতাব্দী) পর্যন্ত বিভিন্ন ইতিহাসবিদের প্রাপ্ত তাম্রশাসন বা লিপি, মুদ্রা ও অন্যান্য ঐতিহাসিক প্রমাণাদি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এখানে অর্থাৎ এই রাজ্য বাঙালি হিন্দু রাজাদের অধীনে ছিলো।

তারপর থেকে এই অঞ্চলে মোঙ্গলিয়া বংশোদ্ভূত সম্প্রদায় রাজাদের ইতিহাস পাওয়া যায় যা ১৫০০ শতাব্দী থেকে। বাঙালি বাদে বাকিরা সবাই তিব্বতীয় মোঙ্গলিয়ান বংশোদ্ভূত সম্প্রদায় এবং বহিরাগত। ত্রিপুরা টিপুরীদের নয় তা বাঙালিদের। ১৪৯০ সালে ধন্যমানিক্যের এক মুদ্রায় ত্রিপুরেন্দ্র শব্দটি পাওয়া গেছে। তার আগে টিপুরা বা ত্রিপুরা নামে কোন লেখা নথি পুথি বা অন্যকিছু পাওয়া যায়নি। টিপুরী ও মাণিক্য রাজাদের সবচেয়ে পুরানো রত্নমানিক্যের মুদ্রা ১৪৬৩-৬৪ সালের পাওয়া যায়। বিকৃত, নোংরা রাজনীতি বন্ধ করার জন্য আমি অনেক ভিডিওতে অনেক পুস্তক ও গ্রন্থ পাঠ করে তথ্য সংগ্রহ করে দেখিয়েছি এবং ভবিষ্যতে আরো দেখাবো এবং গুরত্বপূর্ণ তথ্যসহ তুলে ধরবো। এই রাজ্যের আদি নাম শ্রীভূমি। এই শ্রী ভূমির সীমানা বর্তমান বাংলাদেশের ময়মনসিংহের পূর্ব দিক, ঢাকা ও ফরিদপুরের পূর্বদিক এবং বরিশালের পূর্ব দিক। কাছাড় বরাক মনিপুর, সিলেট, আরাকান নিয়ে বিস্তৃত ছিলো শ্রীভূমি তথা ত্রিপুরার সীমানা হিন্দু বাঙালি রাজার রাজত্বকাল পর্যন্ত।

কিন্তু যখন থেকে এই হিন্দু বাঙালি শ্রীভূমি রাজ্য তিব্বতীয় মোঙ্গলিয়ান বংশোদ্ভূত টিপুরী ও মাণিক্য রাজাদের শাসনাধীনে আসলো এই বৃহৎ রাজ্য ধীরে ধীরে ছোট থেকে ছোট এবং গরীব হতে লাগলো। বর্তমান পার্বত্য ত্রিপুরা সম্পূর্ণ প্রাচীন শ্রীভূমি তথা প্রাচীন ত্রিপুরার দশভাগের এক ভাগ হবে হয়ত। তাই ভারত সরকার ও ত্রিপুরা সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছি, এই রাজ্যের নাম ত্রিপুরা নয়, সংবিধানের ২ ও ৩ ধারা মেনে ” শ্রীভূমি” রাখা হোক বাংলাদেশের অধীনে থাকা বৃহত্তর ও সমৃদ্ধ ত্রিপুরা গড়ে তোলা হোক। পাশাপাশি সমস্ত জাতি, উপজাতি ও বাঙালি পাহাড়ি ভেদাভেদ মুছে, এডিসি ও নন এডিসি বাতিল করে একসাথে ও মিলিত ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে বসবাসের পরিস্থিতি তৈরি করা হোক। তাতেই সব রকমের রাজনৈতিক ও জাতিগত বিদ্বেষ দূর করে সব অংশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

লেখক : শ্রী ননী গোপাল দেবনাথ

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ত্রিপুরা, প্রকৃত ইতিহাস, বাঙালি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন