নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইনে মা-হাতির ‘পা’ ক্ষতবিক্ষত


বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে সশস্ত্র বিদ্রোহী একটি গ্রুপের পুঁতা ল্যান্ডমাইনে একটি মা হাতির ডান পা’ ক্ষতবিক্ষত হয়ে বাংলাদেশ অংশে ঢুকে পড়েছে।
হাতিটি ৭ দিন ধরে সীমান্তের নো-ম্যান্ড ল্যান্ডে আহাজরির পর সোমবার সকালে বাংলাদেশ সীমান্ত সড়ক পেরিয়ে একটি গ্রামে ঢুকে ধান ক্ষেত ও পানের বরজ নষ্ট করে। শুরু হয় হৈ চৈ। এখন সীমান্ত সড়কে অবস্থান করছে হাতিটি।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিন গিয়ে এ তথ্য পান এ প্রতিবেদক।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের জামছড়ি গ্রামের বাসিন্দা রশিদ আহমদ ও জসিমউদদীন জানান, সোমবার ভোর সকালে ৬ মাস বয়সী একটি বাচ্চাসহ মা হাতিটি মিয়ানমার অংশ থেকে তাদের গ্রামে ঢুকে পড়ে। বেলা ১২টার দিকে হাতি জঙ্গল থেকে বের হয়ে তাদের ধানক্ষেতে নষ্ট করতে থাকে।
শুরু হয় হৈ চৈ। গ্রামবাসী তাড়াতে চেষ্টা করলে চিৎকার শুরু করে এটি। বিশেষ করে বাচ্চা বাঁচাতে তৎপর মা-হাতিটি। একপর্যায়ে তাদের পানের বরজটিও ভাংচুর করে। শেষে একই দিন মধ্যরাতের দিকে গ্রামের আরো লোকজন জড়ো হয়ে শোরগোল করতে থাকলে এটি পুনরায় অদূরে নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় চলে যায়।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল এ প্রতিবেদক সকালে মিয়ানমার সীমান্ত সড়ক এলাকায় গিয়ে দেখতে পান মা হাতিটি বাচ্চাটি নিয়ে শুয়ে রয়েছে। মাঝে মাঝে চিৎকার করছে পায়ের যন্ত্রণায়।
স্থানীয় লোকজন বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মা হাতিটি বার বার মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ অংশে ফের চলে আসতে চেষ্টা করছিল। কিন্তু কৃষকরা সতর্ক রয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, মিয়ানমারের জান্তা বিরোধী বিদ্রোহী আরকান আর্মি আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে জিরো লাইনে শতশত স্থল মাইন পুঁতে রেখেছে। যাতে প্রতিনিয়ত কাঠুরিয়া ও বন্যাপ্রাণি হতাহত হচ্ছে। পুরো সীমান্তে লোকজন আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। যা সংশ্লিষ্টদের যাচাই করে আন্তর্জাতিক আইনে ব্যবস্খা নেয়া দরকার।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মাশরুরুল হক বলেন, বন্য হাতিটির ডান পা স্থলমাইনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। তবে সোমবার বিকেলে খবর নেয়ার পর রাতে হাতিটি মিয়ানমারে ফিরে যায়।
অনুরূপ কথা বলেন, ১১ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আল আমিন।
তিনি বলেন, সীমান্তের ওপারে প্রতিপক্ষকে ঘায়েরের জন্যে একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বসানো ল্যান্ডমাইনে মা হাতিটি আহত হয়ে এপারের জামছড়ি গ্রামে আসলেও পরে গ্রামবাসী মধ্যরাতে তাড়িয়ে দেয়।

















