নানা অব্যবস্থাপনায় কক্সবাজারে বাড়ছে যানজট
নিজস্ব প্রতিনিধি:
কক্সবাজার শহরে যানজট এখন নিত্য দিনের ঘটনা। এ যেন শহরেরই একটি অংশ। এতে ভোগান্তির শেষ থাকছে না শহরবাসীর। তারা নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌছাতে না পাড়াসহ নানা সমস্যায় পড়ছেন। দিনের পর দিন এ যানজটের মাত্রা বাড়তে থাকলেও দৃশ্যমান কোন সমাধান হচ্ছে না। পর্যটন নগরীতে এই যানজটের জন্য নানা অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন সচেতন মহল ও ভূক্তভোগীরা।
তারা বলছেন, শহরের সড়কগুলো এমনিতেই ছোট তার মধ্যে ২ পাশের ফুটপাত দখল করে রেখেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। আর তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। যারা ফুটপাত দখলবাজদের কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছেন। ফুটপাত দখলের কারনে বাড়ছে যানজট।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেপরোয়া টমটম ও রিক্সা চালকরা মানছে না ট্রাফিক আইন। তারা ওভারটেক করে লাগিয়ে দিচ্ছে জটলা। ওই জটলা ছুটছে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দিনে শহরে বড় যানবাহন প্রবেশ নিষেধ থাকলেও তা মানা না কেউই। শহরে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক সংখ্যক যানবাহন চলাচল করছে। আর এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ট্রাফিক সল্পতা। শহরের বাস টার্মিনাল থেকে শুরু করে কলাতলী, হলিডের মোড়, ৬ নাম্বার রাস্তার মাথা, ভোলাবাবুর পেট্টুল পাম্প, বাজারঘাটা, বামির্জ মার্কেটক ও কালুর দোকান পর্যন্ত প্রায় ১২ জন ট্রাফিক প্রয়োজন। পর্যটনের চাপ বাড়লে তা আরো বাড়িয়ে দেওয়া দরকার। আর সে জায়গায় দায়িত্ব পালন করছে মাত্র ২-৩ জন ট্রাফিক। এসব অব্যবস্থাপনার কারনেই যানজট নিরসন হচ্ছে না বলে দাবি করছেন সচেতন মহল ও ভূক্তভোগীরা।
শহর ঘুরে দেখা যায়, শহরের ভোলাবাবুর পেট্টোল পাম্প থেকে কালুর দোকান পর্যন্ত প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে সকাল ও বিকালে। পর্যটনের চাপ বাড়লে এ যানযটের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। আর তা থাকে কলাতলী পর্যন্ত।
কক্সবাজার কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল করিম জানান, যানজটের ফলে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের জনগণের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যানজট নিরসনে প্রশাসনের স্থায়ী কোন উদ্যোগ দেখা যায়না। বড়জোর চাপ কমাতে উপ-সড়কগুলো ব্যবহার করে। নয়ত জট ছাড়ানোর চেষ্টা করে। এর পরেও অবমুক্ত করতে দেখা যায় না ফুটপাত। বন্ধ করা হচ্ছে না বাড়তে থাকা যানবাহন।
অদক্ষ্য টমটম ও রিক্সা চালকেরা ট্রাফিক আইন না মেনে প্রতিনিয়ত ওভারটেক করে যানজট সৃষ্টি করতে থাকলেও সামলানো যাচ্ছে না। এছাড়া কারাইবা সামলাবে যারা সামলাবে তাদের সংখ্যা খুবই কম।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান বলেন, যানজটের কারনে শহরে নানামুখি সমস্যা হচ্ছে। এই যানজট মুক্ত করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। ফুটপাত দখলমুক্ত করাসহ নানা ধরনের কাজে প্রশাসনের জোরদার ভূমিকা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর বজলু রহমান বলেন, যানজট নিরসনে ট্রাফিক সবসময় সক্রিয় রয়েছে। তবে লোকবল কম হওয়ার কারনে অনেক সময় তা সম্ভয় হয়ে উঠছে না। যেখানে দৈনিক প্রয়োজন ১২ থেকে ১৩ জন ট্রাফিক। তার মধ্যে সর্বসাকুল্যে রয়েছে ১৩ জন ট্রাফিক (ক্যাশিয়ার) সহ। আর এই ট্রাফিকদের দুই শিফটে ভাগ হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তার মধ্যে ছুটিতে থাকে অনেকে। ফুটপাত দখলের বিষয়ে বলেন, এসব সদর থানা পুলিশের দেখার বিষয়। এছাড়া যানজট নিরসনে ডিভাইডার (বিভাজন) প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, সড়কের প্রসস্থ ৬০ ফুট না হলে ডিভাইডার দেওয়া যায় না।


















