পট পরিবর্তনের পর আমরা প্রশাসনকে সাহায্য করেছি : ডা. শফিকুর রহমান


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে জুলুম সহ্য করেছি। তবে পট পরিবর্তনের পর আমরা কারও ওপর জুলুম হতে দেইনি। দেশবাসীকেও বলেছি ধৈর্য ধরতে। প্রশাসন ভয় পেত, আমরা তাদেরকে সাহায্য করেছি।
গতকাল (শনিবার) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত চট্টগ্রামের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন,জামায়াত দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চায়। অনেক রাজনৈতিক দলই এই কথাটি জোড়ালোভাবে বলতেও পারে না। বলতে গেলে তাদের যেমন হাসি আসবে, তেমনি জনগণও হাসবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভোট আমি দিব তোমার ভোটও আমি দেব’ এই নীতি আর চলবে না। আমাদের লড়াই হবে মজলুমের পক্ষে। আর কাউকে জালিম হয়ে উঠতে দিব না।
চট্টগ্রামের এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সঞ্চলনা করেন চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান।
তিনি আরও বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। অনেক তরুণ জীবনের প্রথম ভোটাধিকারও প্রয়োগ করতে পারেনি। তারা এখন অপেক্ষা করছে ভোট দেওয়ার। কেউ সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। তাহলে পরিণতি ভালো হবে না। অতীত থেকে সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাঁদাবাজ মুক্ত এবং ইনসাফ ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। সকল ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ। তাদের নিয়ে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে আমাদের এমপি-মন্ত্রীরা সরকারি বাড়ি বা টেক্সবিহীন গাড়ি নেবে না।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় বাংলার জনগণের কাছ থেকে দাঁড়িপাল্লা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পরিবর্তিত বাংলাদেশে সেটিই গণমানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর বাংলার জনগণ এমন দেশ চায়, যেখানে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না এবং পরিচালকরা দেশের সম্পদ লুট করে পাচার করবে না।
আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসানুল্লাহ, সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুজ্জামান, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার, খাগড়াছড়ি জেলা আমির অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেন, বান্দরবান জেলা আমির মাওলানা আবদুস সালাম আজাদ, রাঙ্গামাটি জেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল আলিম, কক্সবাজার জেলা নায়েবে আমির এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

















