পেকুয়ায় অবরোধে মাঠে নাই বিএনপি নেতাকর্মীরা, যান চলাচল স্বাভাবিক

পেকুয়া প্রতিনিধি :

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ ও গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করতে না দেয়ার প্রতিবাদে খালেদা জিয়া ঘোষিত অনির্দিষ্ট কালের অবরোধ কর্মসূচিতে মাঠে নাই পেকুয়ার বিএনপি নেতাকর্মীরা। স্বাভাবিক হয়ে এসেছে এ এলাকার যান চলাচল।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করার জন্য পেকুয়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ৬ জানুয়ারি সকালে বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া দেয়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর সহ ছোটখাট কয়েকটি ঘটনাও ঘটে।

কোন মতে প্রথম দিন পেকুয়ায় কোন সড়কে যানবাহন চলাচল না করলেও ২য় দিন থেকে গাড়ি চলাচল শুরু করেছে। তারপরও পুলিশকে উপেক্ষা করে ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদলের বেশকিছু নেতাকর্মী বিভিন্নস্থানে পিকেটিং করলে পুলিশ নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি হানা দেওয়া শুরু করেছে। পুলিশের ভয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে নামছে না। ফলে রাস্তায় কোন ধরণের পিকেটার না থাকায় যানবাহন চলাচল করছে স্বাভাবিকভাবে।

এদিকে অবরোধের নামে যাত্রীবাহী যানবাহনের শ্রমিকদের হয়রানিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে যাত্রী সাধারণ। প্রতিনিয়ত যানবাহনের শ্রমিকদের সাথে যাত্রীদের বাক বিতণ্ডা হয়ে থাকে। শ্রমিকদের দাবি বিএনপি-জামায়াতের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। আর এ অবরোধে জীবনের ঝুকি নিয়ে গাড়ী চালাচ্ছে শ্রমিকরা। এ দুহায় দিয়ে যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে যাচ্ছে। শ্রমিকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে ১০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকার করলে যাত্রীদের সাথে শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতিসহ নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

পেকুয়া বিএনপির ঘাটি হিসাবে পরিচয় থাকলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঢিলেঢালা ভাবে পালিত হওয়ায় গাড়ি চলাচলে কোন ধরণের সমস্যা দেখা দেয় না। অবরোধ কর্মসূচি দিলেও পেকুয়া উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই অবরোধ কর্মসূচির পক্ষে কোন ধরণের তৎপরতা নেই। কর্মসূচিতে রাস্তায় নেমে নেতাকর্মীদের সহযোগিতা এবং অবরোধের সমর্থনে নেই কোন মিছিল। কর্মীদের অভিযোগ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অবরোধ নিয়ে কোন ধরণের মাথা ঘামাচ্ছে না। ফলে পেকুয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

বর্তমানে রাস্তারগুলোর চিত্র দেখলে বুঝা যাবে এটি কি অবরোধ কর্মসূচী চিত্র না অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের চিত্র। সর্বপরি পেকুয়ার সব সড়কে যানচলাচল করছে। ফলে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে যাত্রী সাধারণ। তারপরও যাত্রী সাধারণের কাছে কাটেনি আতংক। ঘর থেকে বের হয়ে কোথাও গেলে মনে ভয়ের কারণ হয়ে দাড়ায়। কোন সময় গাড়ি ভাংচুর করা হচ্ছে আর কোন সময় পুলিশ ও পিকেটারদের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে। অপর দিকে আ’লীগ ও বিএনপির মধ্যে কোন সময় সংঘর্ষ হচ্ছে এ নিয়ে একটু আতংক থাকে। তারপরও অবরোধ কর্মসূচী নিয়ে পেকুয়ায় একটি মামলাও হয়েছে টইটং-এ। আটক করা হয়েছে শিবিরের এক কর্মীকে।

সাম্প্রতি পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদল কে সংগঠিত করতে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে ৭১ জন বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রদল। বর্তমান চলমান অবরোধ কর্মসূচিতে মাঠে নেই আহবায়ক কমিটির তিন যুগ্ম আহবায়ক রুবেল, সোহেল আজিম, মোবাইল মিকার ইমতিয়াজসহ ওই কমিটির ৩৫/৪০ জন সদস্য। এখন শুধু রাজ পথে দেখা যায় উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, সাধারণ সম্পাদক ও টইটং ইউপির চেয়ারম্যান মোসেলম উদ্দিনসহ অন্যান্যদের।

এদের মধ্যে যুগ্ম আহবায়ক আহছান উল্লাহ ফেসবুক নেতা হিসাবে পরিচয় হয়েছেন। সে আন্দোলন সংগ্রাম না করে একটু রাজপথে এসে নেতাদের সাথে একটি ছবি তোলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে থাকে। এটি এর কাজ আন্দোলন ও অবরোধ নয় ফেসবুকে ছবি পোস্ট করা।

এ জন্য গত ৬ জানুয়ারি অবরোধ কর্মসূচির ছবি পোস্ট করায় উপজেলা যুবদলের এক নেতার বকাও খেতে হয়েছে তার। এখন নেতাকর্মীরা অবরোধের নামে আন্দোলনে রাজপথে নামার সাথে সাথে উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে কোন মতে একটি ছবি তুলে কার আগে কে পোস্ট করবে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে।

এদিকে সম্প্রতি ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মোবাইল মিকার ইমতিয়াজ আফ্রিকায় গমন করেছেন। বাকী দুইজনেই চট্টগ্রামে অবস্থান করেন তাদের রাজনীতি চট্টগ্রাম শহরে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন কে কর্মসূচির প্রথম দিন রাজপথে দেখা গেলেও এর পর থেকে আর দেখা যায়নি।

এখন প্রত্যক সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তারপরও পুলিশ নাশকতা ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে টহল ও অবস্থান নিয়েছে। এদিকে অবরোধের নাম দিয়ে নিত্যপণ্যদ্রব্যর মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। যানচলাচল স্বাভাবিক থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নিত্য পণ্যর মূল্য বৃদ্ধি করেছে। এতে কোন ধরণের প্রশাসনিক অভিযান তৎপরতা নেই।

এদিকে অবরোধ সম্পর্কে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর ইউপির চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ জানান পেকুয়া একটি শান্ত এলাকায় অশান্ত করতে চাই না বলে এ অবস্থা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন