পেকুয়ায় জায়গা দখলে নিতে প্রভাবশালীর নতুন কৌশল, সংঘর্ষের আশঙ্কা

পেকুয়া প্রতিনিধি:  
পেকুয়ায় সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা চৈরভাঙ্গা এলাকায় গত দু’সপ্তাহ ধরে ১০ শতক জায়গা জবর-দখলে নিতে তৎপর হয়েছেন প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র। সড়কের পাশে ওই জায়গা দখল করতে মানববন্ধনসহ নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন ওই চক্রটি। এদিকে ১৯৭৭সাল থেকে ক্রমন্বয়ে দলিলের মালিক তার পূর্ব ও বর্তমান দখলীয় স্বত্ত রক্ষা করতে মরিয়া হয়েছেন। জায়গা দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিয়ে নিরহ কৃষকের জায়গা দখলে নিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে প্রক্রিয়া অব্যহত রেখেছে।

আধিপত্য বিস্তার ঘটাতে ওই ব্যক্তির নেতৃত্বে ভাড়াটে লোকজন এলাকায় স্বসস্ত্র মহড়া দিচ্ছে। এনিয়ে সম্প্রতি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

প্রাপ্তসূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া মৌজার বিএস ২০৮২খতিয়ান ও ৩৩৩৩দাগের আন্দরে মগনামা-বানিয়ারছড়া সড়কের চৈরভাঙ্গা পয়েন্টের ১০শতক জায়গার মালিক স্থানীয় জহির আহমদের পুত্র জুবাইর গং। উক্ত জায়গা তার পিতা ১৯৭৭সাল থেকে খাস সম্পত্তি হিসেবে ভোগ দখলে থেকে পরবর্তীতে ডিসিআর ও রাজস্ব আদায় করে আসছিলেন। ১৯৮৭সালে ওই সম্পত্তি তাদের অনুকূলে সরকার দলিল হস্তানান্তর করে। পরে উক্ত জায়গায় জহির আহমদ সেচ পাম্পের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেন। দীর্ঘ দিন পর ১৯৯১সালে ঘুর্ণিঝড়ে সেটি বিধ্বস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ওই জায়গা মালিকের তত্তাবধানে রয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি ওই জায়গার উপর লুলোপ দৃষ্টি পড়ে একই এলাকার মৃত মোজাফ্ফর আহমদের পুত্র শহিদুল ইসলামের। তিনি ওই জায়গা জবর দখল নিতে মিথ্যার আশ্রয়সহ নানা চাল চাতুরীর আশ্রয় নেয়। এরই ধার বাহিকতায় গত ৮ এপ্রিল পেকুয়ায় গুটি কয়েক তার অনুগত ব্যক্তিকে নিয়ে পেকুয়া কলেজের সামনে একটি মানব বন্ধন আহবান করেন। এখানে তিনি উল্লেখ করেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জায়গা জবর দখল করা হচ্ছে।

কিন্তু দেখা গেছে, ওই সম্পত্তির সাথে মেহেরনামা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নূন্যতম সম্পর্ক নেই। এনিয়ে শহিদুল ইসলামের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সংবাদ মাধ্যমে প্রকৃত মালিক জুবাইর গংদের পক্ষে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

বৃহষ্পতিবার জায়গা সরকারী সার্ভেয়ার দ্বারা সীমানা পরিমাপ নির্ধারণের জন্য মালিক জুবাইর পেকুয়া ইউএনও’র কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

এ ব্যাপারে পেকুয়ার ইউএনে মোঃ মারুফুর রশিদ খান ওই আবেদন প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন