পেকুয়ায় জুয়া ও বলী খেলার আধিপত্য নিতে আবারোও প্রকাশ্যে গুলি বিনিময়: আহত ৩

নিজস্ব প্রতিনিধি, পেকুয়া:
পেকুয়ায় জুয়া খেলায় প্রকাশ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এলাকার স্বীকৃত ডাকাতরা এ জুয়ার নামে বলী খেলার আধিপত্য নিতে প্রকাশ্যে ২০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে ছত্রভঙ্গ করে। এসময় ৩ জনকে গুরুতর আহত করে। আহতের মধ্যে ডাকাত ছলোমুল্লাহর নাম জানা গেলেও বাকী দুই জনের নাম জানা যায়নি। এ সময় মঞ্চে রক্ষিত উপহার সামগ্রী লুট করতে আসলে জুয়া খেলার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পেকুয়া-বরইতলি সি.এন.জি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে অস্ত্রসহ তাদের বাধা দিলে দুই পক্ষের মাঝে চরম সংঘর্ষ বেধে যায়।

জুয়া ও  বলী খেলায় উপস্থিত লোকজন দিগবিদিক ছুটতে গিয়ে আরো কয়েকজন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা দেশীয় অস্ত্র দারালো দা কিরিচ নিয়ে এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসী ও ডাকতরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ২১ এপ্রিল বিকাল ৩ টায় উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের লালজান পাড়া এলাকায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত কিছুদিন আগেও রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় সবুজবাজার এলাকায় জুয়ার নামে বলী খেলায় ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। অথচ ওই বলী খেলায় জেলা প্রশাসকের কোন অনুমতি ছিলনা। এর তিন পরেই টইটং ইউনিয়নে দা-বাহিনীর নাসির ও ডাকাত জাহাঙ্গীর আয়োজন করে বলী খেলা ও উলঙ্গ নৃত্যের আয়োজন। ওই দিনও হয় প্রকাশ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময়।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল নাসির উদ্দিন শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ নাম দিয়ে আয়োজন করে ওই বলী খেলার। গোপন সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে এ খেলা শুরু হওয়ার পর পেকুয়া থানার ক্যাশিয়ার নাম দিয়ে থানার জন্য টাকা, ডিএসবির জন্য টাকা ও স্থানীয় ইউপির জন্য টাকা দিয়ে খেলা শুরু করে খেলার কর্তৃপক্ষ। খেলা শুরুর ১ঘন্টা নাগাদ বারবাকিয়া থেকে হারুনর রশিদ বাদশা (গুরু বাদশা), জসিম উদ্দিন, সরওয়ার উদ্দিনের নেতৃত্বে বেশ কিছু স্বীকৃত ডাকাত পুরো খেলার আধিপত্য নিতে চেষ্টা করে।

এক সময় প্রকাশ্যে ওই সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ব্যাপক লুটপাটের পাশাপশি এ সময় তাদের মারধরে ৩ জন আহত হয়। এ সময় জুয়া ও বলী খেলায় আসা লোকজন অভিযোগ করেন, বেশ কিছুদিন ধরে ওই সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন খেলার অধিপত্য নিতে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ায় এলাকায় সন্ত্রাসের রাম রাজস্ত কয়েম শুরু করেছেন।
   অন্যদিকে স্থানীয় স্কুলের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বেশ কিছুদিন ধরে এক সময়ের ডাকাত বর্তমান সিএনজি সমিতির সভাপতি নিজের প্রভাবের জোরে চেয়ারম্যান ও থানাকে ম্যানেজ করে এলাকায় এক ধরণের সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েক শুরু করেছেন।  আর ওই খেলার আধিপত্য নিতে তাদের অপর সহপাটিরা প্রকাশ্যে গুলি বিনিময় করে সাধারন জনগনকে ভীতি সন্ত্রস্ত করে রেখেছে।
   খেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন জানান, পেকুয়া থানা, পেকুয়ার ডিএসবি দায়িত্ব থাকা শাহিন ও স্থানীয় সবাইকে টাকা দিয়ে এ খেলার আয়োজন করা হয়। তারপরও বহিরাগতরা সন্ত্রাসীরা এসে খেলা পন্ড করে দেওয়ায় বেশ লোকসানে পড়েছেন বলে দাবী করেন। জানতে চাইলে ইউপির চেযারম্যান নজরুল ইসলাম বাবুল চৌধুরী জানান, জেলা প্রশাসক থেকে অনুমতি আনার কথা বললে তাদের আর মানা করিনি। পেকুয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান ঘটনার বিষয়ে খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।  এএসপি সার্কেল খালেদ-উজ-জামান, আমি এখন খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব। অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের দাবী এভাবে বলী খেলার অনুমতি পেকুয়া থানা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন না দিলে আইন শৃংখলার চরম অবনতি থেকে পেকুয়া রক্ষা পাবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন