ফারাক্কা লংমার্চ, পদ্মা ব্যারাজ, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি


আজ ১৬ই মে, ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস। ১৯৭৬ সালের আজকের দিনে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে এই লং মার্চ পরিচালিত হয়। ১৯৬১ সালে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে সাড়ে ১৬ কিলোমিটার উজানে মুর্শিদাবাদ জেলায় ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ শুরু করে। ১৯৭৫ সালের ২১ শে এপ্রিল বাংলাদেশের নিকট থেকে ১০ দিনের জন্য পরীক্ষামূলক পানি প্রত্যাহারের অনুমতি নিয়ে সেটি আর বন্ধ করেনি। ফলে ফারাক্কার নজিরবিহীন বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করে ভাটির দেশ বাংলাদেশের পদ্মা অববাহিকা এলাকায়। এরই প্রতিবাদে ১৯৭৬ সালের ১৬ই মে রাজশাহী থেকে কানসাট পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এক ঐতিহাসিক লংমার্চ পরিচালনা করেন ৯০ বছর বয়সী মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। বয়সের কারণে তিনি তখন অসুস্থ এবং মাত্র কয়েকদিন আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তবুও তার নেতৃত্বে এই লংমার্চ দেশে-বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। লংমার্চ মাওলানা ভাসানী নেতৃত্বে পরিচালিত হলেও পেছন থেকে একে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করেছিলেন তৎকালীন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। চলতি বছর ভারতের সাথে ৩০ বছর মেয়াদী ফারাক্কা নদীর পানি বন্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। বাংলাদেশে আলোচনা শুরু হয়েছে নতুন চুক্তির। এরই মধ্যে সরকার ফারাক্কার কুফল থেকে পদ্মা অববাহিকার জনগণকে রক্ষা করতে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এদিকে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ চাইনিজ সহযোগিতায় সরকার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। ফলে এ বছর ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের গুরুত্ব অনেক বেশি ও তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯৫১ সালের দিকে প্রথম পাকিস্তান সরকার জানতে পারে ভারত ফারাক্কায় একটি বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প বিবেচনা করছে। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। ভারত হুগলি নদীর নাব্যতার রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে এই বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে। আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে কোন সমঝোতা না হলেও ১৯৬১-৬২ সালের দিকে ভারত পাকিস্তানের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কারিগরি সহায়তায় হিন্দুস্তান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণ করে। এর দৈর্ঘ্য ২.২৪ কিলোমিটার (৭,৩৫০ ফুট) এবং এতে ১০৯টি গেট রয়েছে। ১৯৭০-৭১ সালে এই বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তবে তখনই বাঁধটি চালু হয়নি।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে ভারত বাঁধের ফিডার ক্যানাল পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশের নিকট থেকে ২১ এপ্রিল থেকে ২১ মে পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনের জন্য সীমিত পানি (৩১০-৪৫০ কিউসেক) অপসারণের অনুমতি গ্রহণ করে বাঁধটি তারা চালু করে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তারা চুক্তি লংঘন করে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার অব্যাহত রাখে। ফলে বাংলাদেশে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করে। ফলে মাত্র কয়েকদিন আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া ৯০ বছর বয়সী মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চের ঘোষণা দেন। লংমার্চের পূর্বে মাওলানা ভাসানী ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে একটি পত্র দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভোগের কথা তাদের দাবি ও লংমার্চ কর্মসূচি সম্পর্কে অবগত করেন। ১৯৭৬ সালের আজকের দিনে রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে শুরু করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লংমার্চে নেতৃত্ব দেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। অসুস্থতা ও বয়সের ভার সত্ত্বেও এই নেতৃত্বে তার দেশপ্রেম ও আধিপত্যবাদ বিরোধী রাজনৈতিক চেতনার পরিচয় ফুটে ওঠে। ফলে বিভিন্ন দল ও মতের লক্ষ লক্ষ মানুষ এই লং মার্চে অংশ নেয়। কেবল ফারাক্কার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয় এই লং মার্চটি বাংলাদেশে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদী রাজনীতির প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই লংমার্চের ফলে ১৯৭৭ সালে ভারত বাংলাদেশের সাথে পাঁচ বছর মেয়াদী ফারাক্কার পানি বন্টন চুক্তি করতে বাধ্য হয়। দুই মেয়াদে সীমিত সময়ের জন্য এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ালেও ভারত কখনোই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে প্রাপ্য পানি প্রদান করেনি।
১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সে বছরের ১২ ডিসেম্বর ভারতের সাথে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা নদীর পানি বন্টন চুক্তি করে। কিন্তু এই চুক্তিতে কোন গ্যারান্টি ক্লজ না থাকায় ভারত কখনোই বাংলাদেশকে তার প্রাপ্য পানি প্রদান করেনি। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মূলত ফারাক্কার উজানে নির্মিত প্রায় ৭০ টি বাঁধ ও ফিডার ক্যানেলের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার করে নিয়ে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করেছে। চলতি বছর এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে।
ফারাক্কা বাঁধকে বাংলাদেশের মরণফাঁদ হিসেবে বলা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রত্যাহারের ফলে পদ্মা ও এর শাখা নদী গুলো শুকিয়ে গেছে। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে যখন ভারত একসাথে সব গেট খুলে পানি ছেড়ে দেয় তখন নদী কুল ছাপিয়ে লোকালয়ে ও ফসলের ক্ষেতে প্রবেশ করে। বিপুল বন্যা সংঘটিত হয়। ফারাক্কার কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৬ টি জেলার পরিবেশ ও প্রতিবেশ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। অত্র এলাকার আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তিত হয়ে চরমভাবাপন্ন হয়ে গেছে। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় মরুকরণ ও সেচ কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে আর্সেনিকের সংক্রমণ বেড়েছে। নদী নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনীতি, ও জীবনধারা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। মিঠাপানির মাছ অত্র এলাকায় দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। মাটির উর্বরতা কমে যাওয়ায় ফসলের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুপেয় পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে উপনীত হয়েছে। সর্বোপরি ভারত ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে পানি নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পানি শাসন বা পানি সন্ত্রাস হিসেবে ব্যবহার করছে। শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে এবং বর্ষা মৌসুমে ডুবিয়ে মারে বাংলাদেশকে।
ভারতের এই আগ্রাসী নীতি মোকাবেলায় ১৯৭০ দশকের শেষ প্রান্ত থেকে বাংলাদেশে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের চিন্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচিত হতে থাকে। বিভিন্ন সময়ে এ নিয়ে কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও ভারতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বাধার মুখে সেসব উদ্যোগ কখনোই পরিণতি লাভ করতে পারেনি। বিশেষ করে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ অনেকখানি এগিয়ে নিয়ে যায়। জাইকার সহযোগিতায় সে সময়ে সকল ধরনের সমীক্ষা ও পরিকল্পনা শেষ করা হয়। কিন্তু এ সময় ভারত শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে সরাসরি এর বিরুদ্ধে তাদের আপত্তি জানায়। দেশে ফিরে এসে শেখ হাসিনা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প স্থগিত করে।রা
৩৬ জুলাই বিপ্লবের পর বর্তমান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রতিনিধিত্বশীল মানুষগুলোকে এক করে পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলন নামে একটি কমিটি গঠন করে অত্র এলাকার জীবন ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন শুরু করে। এতে রাজনীতিবিদ ছাড়াও সামরিক, বেসামরিক, মিডিয়া, পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তা, পদ্মা ব্যারেজের সাথে সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন পেশাজীবী লোকজন এর সাথে জড়িত। তবে এর পূর্বে তিনি বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে লন্ডন প্রবাসী দলীয় প্রধান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি ডকুমেন্ট পেপার প্রেরণ করেন। বিস্তারিত স্ট্যাডি তারেক রহমান গ্রীন সিগন্যাল দিলে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম ঢাকার ব্রাক সেন্টারে একটি বিশাল সেমিনারের আয়োজন করেন। এতে বিএনপি মহাসচিব ও বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, অত্র অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, শ্রেণী ও পেশার মানুষ, বিশেষজ্ঞগণ এই সেমিনারে উপস্থিত থেকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের অপরিহার্যতার কথা তুলে ধরেন। এর ফলোআপ হিসেবে অত্র কমিটি রাজবাড়ীতে আরেকটি বৃহৎ আকারের সেমিনার আয়োজন করে। যাতে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সরকারি মনির হায়দার। এছাড়াও ঢাকা থেকে বিভিন্ন পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞগণ এই সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকল্পটি প্রি একনেক থেকে অনুমোদিত হলেও নানা কারণে শেষ মুহূর্তে আর অগ্রগতি হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করে। এছাড়াও নির্বাচন পূর্ববর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নির্বাচিত হলে পদ্মা ব্যারেজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের অঙ্গীকার করে বিভিন্ন সমাবেশে। ফলে নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি এই প্রকল্পে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমান সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর পদ্মা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা হিসেবে ফারাক্কার কূভাবের প্রত্যক্ষ শিকার হাওয়ায় তিনি নিজেও এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন। এছাড়াও জিকে প্রকল্প এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে বর্তমান আইন মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আন্তরিক সমর্থন জ্ঞাপন করেন। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী দেশের জীবন মরণের প্রশ্ন সমাধানে প্রকল্পটি নিয়ে আন্তরিক ছিলেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং এই প্রকল্প নিয়ে আপোসহীন ছিলেন। ফলে ষড়যন্ত্রকারীদের নানা টেকনিক্যাল প্রশ্নের বাধা পেরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে পায়। তারই আগ্রহের কারণে সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থে এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। সার্বিকভাবে বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক মিটিংয়ে এক নম্বর এজেন্ডাভুক্ত থাকলেও শেষ মুহূর্তে কিছু কারিগরি প্রশ্নে প্রকল্পটি বাদ পড়ে যায়। তবে এর সাথে জড়িত সরকার ও সরকারের বাইরে থাকা ব্যক্তিবর্গের আন্তরিক চেষ্টা ও শ্রমের কারণে শেষ পর্যন্ত গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একনেক মিটিংয়ে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়।
তবে অনুমোদিত হলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। প্রকল্পটির বিরুদ্ধে থাকা ভারতের অনুগ্রহী ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার শুরু করেছে। পরিবেশ, কারিগরি ও কূটনৈতিক বিষয়ে নানা প্রশ্ন তুলে প্রকল্পটি বাধাগ্রস্ত করার জন্য তারা উঠে পড়ে লেগেছে। ভারত উজানে ৫৪ টি অভিন্ন নদীতে শত শত বাঁধ বাংলাদেশের সাথে কোনরূপ আলোচনা ও অনুমতির তোয়াক্কা না করে নির্মাণ করলেও এই বিশেষজ্ঞরা ভারতের সাথে আলোচনা করে তাদের অনুমতি নিয়ে বর্তমান প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শ দিচ্ছে। এই ব্যারেজ নির্মিত হলে বাংলাদেশের কী ক্ষতি হতে পারে সে নিয়ে তারা আলোচনা করলেও ব্যারেজ না থাকায় বাংলাদেশের যে ক্ষতি হয়েছে বিগত ৫০ বছরে সে বিষয়টি তাদের আলোচনায় অনুপস্থিত। তাছাড়া শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য পানি ধরে রাখার ক্ষেত্রে ব্যারেজের বিকল্প কোন প্রস্তাব দ্বারা উপস্থাপনেও তারা অপারগ। তবুও বিশেষ উদ্দেশ্যে তাদের বিরোধিতা চলমান রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটেই আজ মাওলানা ভাসানী ও তার লংমার্চের চেতনা বিশেষভাবে স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একজন ৯০ বছর বয়সী অসুস্থ মাওলানা যেভাবে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেই একই চেতনায় আজ দেশবাসী সচেতন থাকলে ষড়যন্ত্রকারীদের যেকোনো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হতে বাধ্য।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, গবেষক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সম্পাদক পার্বত্যনিউজ।
















