বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা, মরদেহ নিয়ে গড়িমসি আরাকান আর্মির


পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে ৪৮ নম্বর পিলারের ওপারের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বেনডুলা বাজারে দেশী পণ্য বিক্রি করে ফেরত আসার সময় প্রতিপক্ষ আরএসও’র সোর্স ভেবে বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি (এএ)।
রোববার (১২ মে) সকাল ৮টার দিকে শূন্য লাইন থেকে অন্তত ১ কিলোমিটার মিয়ানমার অভ্যন্তরে আরকান ঘাট নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল কালাম (২৮) নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বামহাতির ছড়া গ্রামের বদিউজ্জামানের ছেলে। তার দুটি সন্তান রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ইমন।
এদিকে বাংলাদেশি যুবককে হত্যার ১৪ ঘণ্টার পার হলেও মরদেহ ফেরত দেয়নি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। অথচ রবিবার (১২ মে) দুপুর থেকে লাশ ফেরত দেওয়ার কথা বলে ৩ দফায় নিহত আবুল কালামের পরিবারকে সীমান্তের ৪৮ পিলারের কাছাকাছি আরকান ঘাট নামক স্থান বসিয়ে রাখেন আরাকান আর্মির সদস্যরা।
বিষয়টি স্বীকার করে লাশের জন্যে অপেক্ষামান মৃত আবুল কালামের ভাই আবু তাহের ও স্ত্রী আরিফা মনি পার্বত্যনিউজকে বলেন, মরদেহ ফেরত পেতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সীমান্তে অপেক্ষা করি। তবে মরদেহ ফেরত দেবে বলে আরাকান আর্মি কয়েকদফায় ঘুরায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মরদেহ না দিয়েই তাদের ফেরত দেয় আরাকান আর্মি। পরে রাত ৮টায় খালি হাতে বাড়িতে ফিরে আসি।
এদিকে নিহতের স্ত্রী জানান, তার স্বামী রবিবার ভোর সাড়ে ৩টায় অন্যান্যদের সাথে নিয়ে সীমান্তে যায়। সকালে খবর পায় আরাকান আর্মির গুলিতে স্বামী নিহত হয়েছে।
স্বামী হারিয়ে আরিফা মনি এখন বাকরুদ্ধ। তিনি জানান, তার স্বামী কোন বিদ্রোহী গ্রুপের সাথে পরিচিত ছিল না। গরীব মানুষ কাজ করে সংসার চালাই। শ্রমিক হিসেবে ব্যবসায়ীদের কাজ করতো তার স্বামী।
অপরদিকে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রগুলো জানায়, আরাকান আর্মির গুলিতে নিহত আবুল কালাম বাংলাদেশ থেকে মুরগীর ডিমের ১টি খাচিসহ কিছু পণ্য দিয়ে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অংশে বেনডুলা বাজার যায়। ফেরার পথে আরকান ঘাট নামক স্থানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির সদস্যরা তাকে আটক করে। সে সময় তার দলে ছিলো ৫ জন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের মধ্যে একজন পার্বত্যনিউজকে জানান, বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির সদস্যরা আবুল কালামকে মিয়ানমারের অপর বিদ্রোহী গোষ্ঠী রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গনাইজেশনের (আরএসও) সোর্স মনে করে আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকে। সে কারণে কোন কথাবার্তা না বলেই তাকে কাছে ডেকে নিয়ে কপাল বরাবর গুলি কর। ফলে ঘটনাস্থলেই সে লুটে পড়ে। এতে সে মারা যায়। পরে তাকে সারাদিন পলিথিনে ডেকে রাখা হয়। সন্ধ্যার সময় কাঠের বাক্সে রেখে দেয়।
এদিকে মৃত আবুল কালামের পরিবার জানায়, বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির সদস্যরা বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার পর সীমান্তে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবুও মরদেহ ফেরত নেওয়ার জন্য তারা সীমান্তে অবস্থান করেন।
স্থানীয়রা অনেকে ধারণা করছেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠী রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গনাইজেশনের (আরএসও) সোর্স সন্দেহ করে আবুল কালামকে হত্যা করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানান, এ ঘটনার পর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত সড়কে সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে বিজিবি তাদের টহল জোরদার করেছে।
এ বিষয়ে জানতে ৪৮ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় দায়িত্বরত ১১-বিজিবির অধিনায়ক সাহল আহমদ নোবেল ও নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মান্নানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ইমন বলেন, বামহাতির ছড়া এলাকার যুবক আবুল কালামকে গুলি করে হত্যার বিষয়টি জেনেছি। তার মরদেহ এখনও মিয়ানমার অংশে। তবে মরদেহ ফেরত আনার ব্যাপারে জোর তৎপরতা চলছে বলে জানান তিনি।

















