মাটিরাঙ্গায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণ
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন বেলছড়ি ইউনিয়নের মালেক মেম্বার পাড়া এলাকায় বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রকাশ্যে পাহাড় কাটছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী। সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত দশ দিন ধরে প্রতিদিন ৮/১০ জন শ্রমিক সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাহাড়টি কেটেছেন প্রশাসনের কোন ধরনের বাঁধা ছাড়াই। অব্যাহভাবে পাহাড়া কাটার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে নির্মল পরিবেশ।
জানা গেছে, পদ্মা অয়েল কোম্পানীতে কর্মরত স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মো: আনোয়ার হোসেন বাড়ি নির্মাণের জন্য বেলছড়ির মালেক মেম্বার পাড়া এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ধরনের অনুমোদন ছাড়াই প্রায় পঞ্চাশ ফুটেরও বেশী উচ্চতার পাহাড়টি অব্যাহতভাবে কেটে চলেছেন।
প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটার বিষয়ে মো: আনোয়ার হোসেন‘র কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমি বাড়ি করবো তাই আমার পাহাড় আমি কাটছি এজন্য কারো অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। তাই কোথাও অনুমতি নিইনি। স্থানীয় বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, অনেকেই পাহাড় কাটছে আমি কাটালে দোষ হবে কেন। তিনি আরো বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে আমি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো: দেলোয়ার হোসেনকে জানিয়েছি। তবে যোগাযোগ করা হলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো: দেলোয়ার হোসেন অনুমতি দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি কি করে পাহাড় কাটার অনুমতি দেবো।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ড. মোহাম্মদ মাহে আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত নই। অনুমতি ছাড়া কোনো সংস্থা ও ব্যক্তি পাহাড় কাটতে পারে না উল্লেখ করে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে জড়িত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, গত কয়েকদিন ধরে তারা পাহাড় কাটার কাজ করছেন। পাহাড় কাটার অনুমতি আছে কি না বা অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন আছে কিনা এ বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেনা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সচেতন মহল এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন, স্থানীয়ভাবে তাকে পাহাড় কাটতে নিষেধ করা হলেও সে কারো কোন কথা শুনেনি। উপজেলা সদরের খুব কাছাকাছি প্রকাশ্যে বাড়ি নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটা হলেও জড়িত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে সচেতন মহলে।



















