টেকনাফে মশার কয়েল থেকে আগুনে পুড়ে নিঃস্ব ১৫ পরিবার


একটি জ্বলন্ত মশার কয়েল যে তিল তিল করে গড়া ১৫টি পরিবারের স্বপ্ন মুহূর্তে ছাই করে দেবে, তা কে জানত! মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জালিয়া পাড়ায় নিশি দাসের ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো পাড়ায়।
দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় রাজ কুমার দাশ, বাদল দাশ, মিন্টু দাশ ও রামপদ দাশদের সাজানো সংসার। স্থানীয় এলাকাবাসী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস দীর্ঘ তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ১৫টি বসতঘর পুড়ে ছাই ও কয়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আর্তনাদে এখন জালিয়া পাড়ার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ৭ সদস্যের পরিবার নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রামপদ দাশ, যার প্রায় ১০ লক্ষ টাকার সম্পদ নিমিষেই ধুলোয় মিশে গেছে। একই পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে শিদুল দাশেরও। এছাড়া রনজিত দাশের ৯ লক্ষ টাকা, কৃষ্ণ পদ দাশ ও রুবেল দাশের প্রত্যেকে ৭ লক্ষ টাকা করে মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নিশি দাসের ঘর থেকে শুরু হওয়া এই আগুন জনি দাশ, কাজল দাশ ও রঞ্জু দাশদের মতো তরুণদের স্বপ্নকেও পুড়িয়ে দিয়েছে, যাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা ছাড়িয়েছে।
বিপর্যয়ের হাত থেকে রেহাই পায়নি জালিয়া পাড়ার বিধবা ও প্রবীণরা। স্বামীহারা রাজ দাশ ও চিনু দাশ তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে আজ নিঃস্ব। প্রবীণ ভাগ্য দাশ ও ননী গোপাল দাশের উত্তরসূরিরা আজ খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে হাহাকার করছেন। আগুন থেকে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে অবুঝ শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টেকনাফ স্টেশনের কর্মকর্তা জামিন মিয়া জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা অনেক বেশি থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পুড়ে যাওয়া এলাকা বুধবার সকালে পরিদর্শন করেছেন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী। তিনি গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “আমি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং ইতিমধ্যে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবগত করা হয়েছে।” তিনি এই চরম বিপদের সময় অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।
বর্তমানে জালিয়া পাড়ার ধ্বংসস্তূপের ওপর বসে ডুকরে কাঁদছেন ডলি রানী দাশ ও বাতাশী দাশদের মতো মায়েরা। এক কাপড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসা এই মানুষগুলোর কাছে এখন না আছে খাবার, না আছে মাথা গোঁজার ঠাঁই। একটি সামান্য অসাবধানতা আজ ১৫টি পরিবারের সাজানো জীবনকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে দিয়েছে।

















