মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন, প্রশাসনের অভিযান


কক্সবাজারের চকরিয়ায় বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ ভাবে মাতামুহুরী নদী থেকে সেলোমেশিন বসিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় বালু উত্তোলনে জড়িতরা বালুর পয়েন্ট থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়।
গতকাল শুক্রবার (৪ মার্চ) বিকেলে চকরিয়া পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডস্থ মাতামুহুরী নদীর দিগরপানখালী বালু পয়েন্ট এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেপি দেওয়ানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
জানা যায়, চকরিয়া পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডস্থ দিগরপানখালী এলাকায় মাতামুহুরী নদীতে ভাসমান বেইজের ওপর সেলোমেশিন বসিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছিল স্থানীয় কতিপয় অসাধু বালু ব্যবসায়ী। গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় এলাকাবাসী মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে। এসময় প্রতিবাদী জনগণের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বেলাল উদ্দিন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ এলাকা থেকে ফকির হাটখোলা পর্যন্ত মাতামুহুরী নদী থেকে সেলোমেশিন বসিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা। এই বালু উত্তোলনে রাত-দিন শত শত বালু ভর্তি গাড়ি যাওয়া-আসা করে। এতে চলাচলে চরম ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে সড়ক ও মাতামুহুরী নদীর পাড়। যেকোন মুহুর্তে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে সড়কটি।
এছাড়াও বালু ভর্তি অতিরিক্ত গাড়ি চলাচলে ধুলোবালিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সড়কে যাতায়াতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। বিকেলে স্থানীয়রা বালু উত্তোলন বন্ধে প্রতিবাদে মানববন্ধন করলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। ওইদিন সরেজমিনে পরিদর্শনে যান উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা।
অভিযানের ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান বলেন, মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তিরা অনুমোদন ব্যতিত আইন লঙ্ঘন করে নদী থেকে ভাসমান বেইজের ওপর সেলোমেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এ অবস্থার কারণে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এনিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে ইতিপূর্বে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকদফা অভিযানও চালানো হয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মাতামুহুরী নদী থেকে দিগরপানখালী পয়েন্টের বালু উত্তোলন এলাকায় অভিযানে গেলে বালু উত্তালনে জড়িত অসাধু ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, অভিযানের সময় বালু পয়েন্ট থেকে কোন ধরণের মেশিন ও পাইপ দেখা যায়নি। অবৈধ বালু উত্তোলনে যারা জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

















