মিয়ানমার রোহিঙ্গা গণহত্যা করেছে, আন্তর্জাতিক আদালতের শুনানিতে অভিযোগ গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রীর


রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানিতে আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিইজি) বিচারকদের কাছে অভিযোগ তুলে ধরলেন গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জালো। ১২ জানুয়ারি ২০২৬ রোববার নেদারল্যান্ডসের হেগে এই ঐতিহাসিক মামলার শুনানি চলছে। তবে শুনানিতে মিয়ানমার গণহত্যার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
মুসলিম অধ্যুষিত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে ওআইসির সমর্থনে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করে।
শুনানিতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক এই বিচার আদালতের বিচারকদের গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জালো বলেন, মিয়ানমার সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে এবং তাদের জীবনকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে।
আইসিইজি বিচারকদের কাছে তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গারা সহজ-সরল মানুষ, যাদের শান্তি ও মর্যাদার সাথে বসবাসের স্বপ্ন রয়েছে। তাদের ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মিয়ানমার তাদের স্বপ্নকে অস্বীকার করেছে। আসলে এটি তাদের জীবনকে একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে যা তাদের কল্পনা করা সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, এক দশকেরও বেশি সময় পর এটিই প্রথম আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি। এই ফলাফলের প্রভাব মিয়ানমারের বাইরেও পড়বে, সম্ভবত গাজা যুদ্ধের বিষয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইসিজেতে দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যার মামলার উপর প্রভাব ফেলবে।
রয়টার্স আরো জানায়, মুসলিম অধ্যুষিত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে আইসিজে-তে (যা বিশ্ব আদালত নামেও পরিচিত) মামলাটি দায়ের করে। যেখানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রত্যন্ত পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয়। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী একটি অভিযান শুরু করে যার ফলে কমপক্ষে ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। যেখানে তারা হত্যা, গণধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জাতিসংঘের একটি তথ্য-অনুসন্ধানকারী মিশন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে ২০১৭ সালের সামরিক আক্রমণে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল ।
শুনানির আগে হেগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা চান দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আদালতের মামলাটি ন্যায়বিচার পাক।
রোহিঙ্গা নির্যাতিত জনগোষ্ঠী বলছেন তারা ন্যায়বিচার চান। তারা বলছেন, “আমরা এমন একটি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছি যা বিশ্বকে জানাবে যে মিয়ানমার গণহত্যা করেছে এবং আমরা এর শিকার এবং আমরা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য।
রোহিঙ্গা শরণার্থীরা রয়টার্সকে বলছেন যে, তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যে মুসলিম জঙ্গিদের আক্রমণের জবাবে তাদের সামরিক অভিযান একটি বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান।
২০১৯ সালে আইসিজে মামলার প্রাথমিক শুনানিতে মিয়ানমারের তৎকালীন নেত্রী অং সান সু চি গাম্বিয়ার গণহত্যার অভিযোগকে “অসম্পূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর” বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
আইসিজেতে এই রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি তিন সপ্তাহ ধরে চলবে। আইসিজে হলো জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত এবং রাষ্ট্রগুলির মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে।
২০২১ সালে যখন সেনাবাহিনী নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে এবং গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকে সহিংসভাবে দমন করে, তখন থেকে মিয়ানমার আরও অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে, যার ফলে দেশব্যাপী সশস্ত্র বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়।


















