রাঙামাটিতে এখনো পানিবন্দী ১৫ হাজার মানুষ

fec-image

রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তবে এখনো পানিবন্দি আছে জেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। এরমধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাত হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দি রয়েছে। এছাড়াও নতুন করে আবারো প্লাবিত হয়েছে জেলার জুরাছড়ি এবং বরকল উপজেলার বেশকিছু গ্রাম।

এদিকে গত দু’দিন পানিবন্দি থাকার পর অবশেষে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া বাজার থেকে পানি নেমে গেছে। তবে বন্যায় ব্যবসায়ীদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

জেলার পর্যটন নগরী বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের মাচালং সড়ক থেকে পানি সরে যাওয়ায় সাজেকের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ওই এলাকায় পর্যটকদের ভ্রমণে এখনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। উপজেলা সদরের প্রবেশ মুখের মূল সড়ক ধসে যাওয়ায় ওই উপজেলায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে হালকা যানবাহন চলাচল করছে। সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক থেকে পানি সরে যাওয়ায় রাঙামাটির সাথে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কাপ্তাই হ্রদ কেন্দ্রীক পাঁচটি উপজেলার সাথে জেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে।

রাজস্থলী উপজেলার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সুমন বলেন, রাঙামাটি-বান্দরবান মহাসড়কের ধসে যাওয়া সেতুটি সংস্কারে অনেক মাস সময় লাগতে পারে। তবে উপজেলার উদালবুনিয়া-রাজভিলা হয়ে ডাকবাংলো সড়ক ব্যবহার করে বান্দরবান-রাঙামাটি যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলার স্থানীয় সংবাদকর্মী মাহমুদুল হাসান বলেন, বাঘাইছড়িতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বেশির ভাগ মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে তাদের নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেছে। পানিবন্দি এলাকায় মানুষদের মাঝে স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা খাবার প্রদান করছে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে জানানো হয়- জেলায় প্রায় চার হাজারের কাছাকাছি মানুষ এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে । তাদের মাঝে যথা সময়ে খাবার প্রদান করা হচ্ছে।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মোট ৩হাজার ৪৯৫হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে। যার মধ্যে ধানের জমি আক্রান্ত হয়েছে ৭১৭হেক্টর।

রাঙামাটি মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলার ২০টি ইউনিয়নের ৭৬টি পুকুর-খামারের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ১কোটি ৭২লাখ টাকার। এরমধ্যে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, পাহাড় ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক অনেক সড়কের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ২কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস হয়েছে। সড়কগুলো সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

রাঙামাটিতে এ পর্যন্ত পাহাড় ধসে একজন, পানিতে ভেসে একজন, প্রবল বর্ষণে একজন মারা গিয়েছেন। পাহাড় ধসের ঘটনায় আরও ২শিশু আহত হয়েছিলো।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: রাঙামাটি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন