রাঙামাটিতে ধর্ষণের অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তা নিক্সন চাকমার বিরুদ্ধে মামলা

fec-image

রাঙামাটি রাঙামাটিতে ধর্ষণের অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এক নারী (৪২)। অভিযুক্ত নিক্সন চাকমা সোনালী ব্যাংকের রিজার্ভ বাজার শাখার প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা। মামলায় অভিযুক্তের স্ত্রী অনুরাধা চাকমার বিরুদ্ধেও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

গত ২৯ ডিসেম্বর রাঙামাটির কোতোয়ালি থানায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী নারী মামলার এজাহারটি দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেন থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন।

মামলার এজাহারে ঋণ নিতে গিয়ে ওই ব্যাংক কর্মকর্তার লালসার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এতে তিনি ঋণের আশ্বাসে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের স্থির ও ভিডিওচিত্র ধারণ করে পরবর্তীতে সেগুলো দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়ন, মানসিক নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ করেন। ‎

এজাহারে বাদী আরও অভিযোগ করেন, আর্থিক প্রয়োজনে সোনালী ব্যাংকের ওই শাখায় ঋণের জন্য গেলে অভিযুক্তের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে দ্রুত ঋণ অনুমোদনের আশ্বাসে ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর বিকালে রাঙামাটি শহরের একটি আবাসিক হোটেলে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে তাকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। ওই সময় স্থির ও ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। পরে সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল।

এর সবশেষ ২০ ডিসেম্বর ছবি ও ভিডিওগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোবাইলে এসএমএস (ক্ষুদে বার্তা) পাঠিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত নিক্সনের স্ত্রী অনুরাধা। টাকা দিতে না পারায় অভিযুক্তরা ফেসবুক মেসেঞ্জারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষণের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙামাটির কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী ওই নারী পাহাড়ি সম্প্রদায়ের। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা (নং-১৫ তারিখ ২৯/১২/২০২৫)) জিআর নং-১৩৩ রুজু করা হয়েছে। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(১) ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এর ৮(১)/৮(২)/৮(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামি পলাতক। তাকে ধরতে পুলিশি তৎপরতা চলছে।

এ ব্যাপারে ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ায় অভিযুক্তের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ধর্ষণ, মামলা, রাঙামাটি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন