পেট্রোল ঢেলে সড়কে আগুন, পিকেটারদের উল্লাস, পর্যটক ও শ্রমজীবীদের ক্ষোভ


খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে পিকেটাররা নাশকতা উৎসবে মেতেছে। তারা সড়কে আগুন আতঙ্ক সৃষ্টি করে নিজেরা মোবাইলে ফেইসবুকিং নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। এতে সকাল থেকে অফিসগামী ও শ্রমজীবী মানুষ- যারা কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে গন্তব্যে ছুটছেন, তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনাকে সামনে রেখে দুস্কৃতিকারীরা ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে।
বিভিন্ন সড়কে পিকেটাররা পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে সহিংসতা চালাচ্ছে। একটি গোষ্ঠী পাহাড়কে অস্থিতিশীল করতে গোপনে ছাত্রদের অর্থের যোগান দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অবরোধে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সাজেকে প্রায় ২ হাজার এবং রাঙামাটি শহরে সহশ্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছে। পর্যটকদের গাড়ি ছেড়ে দেয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অনুরোধ করলেও অবরোধকারীরা তা মানছে না। পর্যটকদের অনেকেরই কর্মস্থলে গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকার কথা জানিয়েছেন।
কেবল পর্যটকই নয়, শ্রমজীবী মানুষরাও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। ঢাকাসহ জেলা বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা একাধিক যাত্রীবাহী বাস পথে আটকা পড়ায় পর্যটকসহ শত শত যাত্রী সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন পর্যটক ও শ্রমজীবী মানুষ।
গত বৃহষ্পতিবারও তারা এই একই কাজ করেছে। ফের সড়কে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ ডেকে জনভোগান্তি সৃষ্টির পেছনে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মী ও পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর ইন্ধন ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। তিনি গতকাল বলেছেন, পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি, সহাবস্থান ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সকল ধর্ম, জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে মানবিক মূল্যবোধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দুর্গা পুজাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ পাহাড়কে অশান্ত করা চেষ্টা করছে। ধর্ষণের ঘটনাকে সামনে রেখে দুস্কৃতিকারীরা ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে। পাহাড়ি-বাঙালির সুসম্পর্ক নষ্ট করতে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতারাও এতে ইন্ধন দিচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
ডাকসু কার্যনির্বাহী সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সর্ব মিত্র চাকমা খাগড়াছড়িতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা এবং এ ঘটনা কেন্দ্র করে তিন পার্বত্য জেলায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি নিয়ে তিনি স্থানীয় জনগণকে আইনের প্রতি ভরসা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। ‘ধর্ষণের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দিকে ধাবিত না করে ধর্ষকদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দিকে নজর দিতে হবে বলে তিনি তাঁর ফেইসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন।

















