রাঙামাটির পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক- নির্বাচন কমিশন
স্টাফ রিপোর্টার:
চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে রাঙ্গামাটির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই জেলায় আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক করবে সংস্থাটি। এতে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ও সচিব সিরাজুল ইসলাম স্বয়ং বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপ-সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, রাঙ্গামাটির ৪৯টি ইউনিয়নের নির্বাচন গত ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও জনসংহতি সমিতির প্রার্থীদের ভয়ভীতির কারণে প্রধান প্রধান দলগুলোর প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। সে সময় আওয়ামী লীগ ১৯ ইউপি এবং বিএনপি ২৭ ইউপিতে প্রার্থী দিতে পারেনি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ২৯ মার্চ এ জেলার সব ইউপির নির্বাচন প্রায় দু’মাস পিছিয়ে আগামী ৪ জুন ষষ্ঠ ধাপে নিয়ে যায় ইসি। কিন্তু নির্বাচন পেছানো হলেও ৫টি ইউপিতে বড়দলগুলো প্রার্থী দিতে পারেনি। মাঠ পর্যায় থেকে পরিস্থিতি প্রতিবেদনেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবেদন এসেছে বলেও জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা। যেজন্য ওই জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচিব ও সিইসি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন।
এই সফর উপলক্ষে জারি করা নির্দেশনা থেকে জানা যায়, আগামী শনিবার (২১ মে) রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইন-শৃঙ্খলা বৈঠক করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ। এতে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীর কর্মকর্তা, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং প্রার্থী ও নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সিইসি বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকাল ৮টায় নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে প্রথমে চট্টগ্রাম যাবেন। এরপর দুপুর ১২টায় চট্টগ্রামের প্রশাসন ও বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় সার্কিট হাউজে বৈঠক করবেন। সেখানেই রাত্রিযাপন করে শুক্রবার (২০ মে) রাঙ্গামাটি যাবেন। ওইদিন জেলার সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করে ২১ মে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইন-শৃঙ্খলা বৈঠক করবেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ফিরে রাত ৮টার ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরবেন। ইসি সচিব সিরাজুল ইসলামও একইদিন চট্টগ্রাম, এরপর রাঙ্গামাটি যাবেন। তিনিও ফিরবেন ২১ মে শনিবার রাতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল একজন উপ-সচিব জানান, এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চার ধাপের নির্বাচনে হওয়া সহিংসতায় প্রায় ৮০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। এটি ভালো খবর নয়। তার ওপর রাঙ্গামাটিতে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। সেখানে যাতে কোনো অনিয়ম-সহিংসতা না হয়, সেজন্যই এতো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চলমান ইউপি নির্বাচনে সিইসি এই প্রথম কোনো জেলায় গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বৈঠক করছেন। যদিও এর আগে ঢাকায় কেন্দ্রেীয়ভাবে দু’দফায় বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন।
আগামী ২৮ মে পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এপর ৪ জুন ষষ্ঠ ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্যে দিয়ে ইউপি নির্বাচন শেষ হবে।
ইসির সহাকারী সচিব (সংস্থাপন) লুৎফুল কবীর স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনাটির অনুলিপি সেনাবাহিনীল প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মহাপুলিশ পরিদর্শক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবকেও পাঠানো হয়েছে।
সূত্র- বাংলানিউজ


















