রাঙ্গামাটিতে ৯ বন্য প্রাণী তক্ষকসহ দুই পাচারকারীকে আটক

আলমগীর মানিক, রাঙ্গামাটি:
রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে যাত্রীবাহি বাস থেকে ৯টি বন্য প্রাণী তক্ষক (টোটটেং)সহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে দক্ষিণ বন বিভাগের কর্মীরা। শুক্রবার সকালে মানিকছড়ি চেকপোষ্টে একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার একজন প্রতিনিধিসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ফরেষ্টার মোঃ নাসির উদ্দিন, রাঙামাটি থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় যাত্রীবাহি ইউনিক বাসে তল্লাশি চালিয়ে পাচারকারী মোঃ সালাম (৩৮) মোড়লকে ৯টি তক্ষকসহ আটক করে। পরে তাকে রাঙামাটি দক্ষিণ বনবিভাগ অফিসে আনলে সেখানে তাকে ছাড়িয়ে নিতে আসা মোঃ এখলাছ নামে অপর একজনকে আটক করে কোতয়ালী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
আটককৃত সালাম বনবিভাগের লোকজন ও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে জানায়, এখলাছ উদ্দিন তাকে তক্ষকগুলো খুলনায় নিয়ে যাবার জন্য পাচঁ হাজার টাকা দিয়েছে। তাই তার কথার ভিত্তিকে তিনি রাঙামাটি এসে বিনয় চাকমা নামে একজনের কাছ থেকে তক্ষকগুলো নিয়ে ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে চড়ে যাচ্ছিল। তার বাড়ি খুলনার পাইকগাছা এলাকায় বলে জানিয়েছে। এই তক্ষকগুলো খুলনার তক্ষক ব্যবসায়ি তৌহিদের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল বলে জানিয়েছে আটককৃত সালাম। তিনি জানান, বিনয় চাকমা নামে যে ব্যাক্তি তাকে ত্ক্ষকগুলো দিয়েছিল তার বাড়ি রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী এলাকায়। তিনি এই তক্ষকগুলো সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য এখলাছের মাধ্যমে সালামকে দেয়। এক প্রশ্নের জবাবে বিনয় চাকমার পিতৃক বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলায় হলেও তিনি ভেদভেদিতে পরিবার পরিজন নিয়ে থাকেন।
এদিকে আটককৃত এখলাছ জানান, আমার সাথে সালামের কোনো সম্পর্ক নাই, তবে সে আমার পূর্ব পরিচিত হওয়ায় আমি তাকে ছাড়িয়ে নেবার চেষ্ঠা চালিয়েছি। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, প্রশাসনের একটি মহলকে ম্যানেজ করে একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বিপন্নপ্রায় বন্য প্রাণী তক্ষক (যাকে স্থানীয় ভাষায় টোটটেং বলে) পাচারের সাথে জড়িত থেকে এসব নিরীহ প্রাণী পাচার করে আসছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতার কারণে মাঝে মধ্যে কয়েকজন পাচারকারি আটক হলেও বাকি রাঘব-বোয়ালরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। বন বিভাগের কর্মকর্তা রেঞ্জার হাফিজুর রহমান জানান, তাদের বিরুদ্ধে বন্য আইনে মামলা দায়ের করা হবে। আদালতের আদেশ পেলে বন্য প্রাণী গুলো বনে অবমুক্ত করা হবে বলে তারা জানান। রাঙামাটি কোতয়ালী থানার এসআই প্রহলাদ জানিয়েছেন, বনবিভাগের দায়ের করা মামলায় আমরা দুইজনকে গ্রেফতার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

















