রামু সরকারি কলেজে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজে বাধা : অধ্যক্ষের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে ক্ষোভ

fec-image

রামু সরকারি কলেজে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজে বাধা দেয়া ও কলেজ অধ্যক্ষের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন বিএনপি নেতা ফুরকান উল্লাহ। মঙ্গলবার, ২৪ জুন বিকাল ৪টার দিকে কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাছানুল ইসলামের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

ফুরকান উল্লাহ ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক এবং ইয়াবা মামলার আসামী। এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। খবর পেয়ে রামু থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাছানুল ইসলাম জানিয়েছেন- ‘কলেজে সরকারি অর্থায়নে সীমানা প্রাচীন নির্মাণসহ ২০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। মঙ্গলবার বিকালে ফুরকান উল্লাহ নামের স্থানীয় বাসিন্দা প্রথমে ফোনে এবং পরে আমার কক্ষে এসে আমার সাথে মারমুখি আচরণ করেছেন। বিষয়টি রামু থানা সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনী প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রামু সরকারি কলেজের শিক্ষক মোবারক হোসেন জানান- সরকারি বরাদ্ধে কলেজের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চলছে। মঙ্গলবার বিকালে তিনি সহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ এবং কলেজের একটি অনুষ্ঠান শেষ করে কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এসময় একটি অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন করে কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাছানুল ইসলামকে কাজ বন্ধ করার জন্য হুমকিসহ অশ্রাব্য কথাবার্তা বলা হয়। এর কিছুক্ষনের মধ্যেই ফোন করে বকাঝকা করা বিএনপি নেতা ফুরকান উল্লাহ কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করেন। প্রবেশ করেই তিনি মারমুখি হয়ে অধ্যক্ষের টেবিলের সামনে গিয়ে অধ্যক্ষকে বকাঝকা ও অশ্রাব্য কথাবার্তা শুরু করেন। ফুরকান উল্লাহ অধ্যক্ষকে বলেন ‘আপনি কি এখানে প্রিন্সিপালগিরি করতে আসছেন, নাকি গুন্ডামি করতে আসছেন’। এসময় উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে নিবৃত করে কক্ষের বাইওে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি বাইরে গিয়ে অধ্যক্ষসহ আরও কয়েকজন শিক্ষককে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।

তিনি আরও জানান- কলেজের সীমানা প্রাচীর যেখানে নির্মাণ হচ্ছে সেখানে ফুরকান উল্লাহর কোন স্বত্ত্ব নেই। তার সাথে কোন বিরোধও ছিলো না। একজন ব্যক্তির হয়ে তিনি শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনেই অধ্যক্ষকে যেভাবে লাঞ্চিত করেছেন তা মেনে নেয়া যায় না।

কলেজের সিনিয়র শিক্ষক শহীদুল হক কাজল জানিয়েছেন- বিকালে কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা কমিটির জরুরী মিটিং চলছিলো। ওই সময় ফুরকান উল্লাহ কক্ষে প্রবেশ করে অধ্যক্ষকে গুন্ডা ডেকে মারমুখি হয়ে বকাঝকা শুরু করে। অধ্যক্ষর সাথে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে উপস্থিত শিক্ষকরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। কলেজের জমি ফুরকান উল্লাহর কোনো মালিকানা নেই। এরপরও তিনি একটি রাজনৈতিক দলের পদবী ব্যবহার করে কলেজে সন্ত্রাসী কায়দায় উন্নয়ন কাজে বাঁধা দিয়েছেন এবং অধ্যক্ষের সাথে মারমুখি ও চরম অসংলগ্ন আচরণ করেছেন। এর সুষ্ঠু বিচার না হলেও কলেজে আরও অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন- কলেজের একজন সিনিয়র শিক্ষক দীর্ঘদিন কলেজে জমি নিয়ে বাণিজ্য ও উন্নয়ন কাজে বাধা দেয়াসহ নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এ ঘটনার পেছনেও ওই শিক্ষকের ইন্ধন ছিলো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ফুরকান উল্লাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান- কলেজের জমিতে তার স্বত্ব রয়েছে। তিনি কলেজ অধ্যক্ষের সাথে এ ব্যাপারে বসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বসতে রাজি না হওয়ায় এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

জানা গেছে, কলেজ অধ্যক্ষের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরনে অভিযুক্ত ফুরকান উল্লাহ ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই ডিএমপির পল্টন থানা এবং ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল ডিএমপির মতিঝিল থানা পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ আটক হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা (নং ৩৫/১৭৪ ও ৩৮/৩০৭) বিচারাধিন রয়েছে।

রামু থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ জানিয়েছেন- কলেজ সরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকার কাজে বাঁধা দেয়া ও অধ্যক্ষের সাথে এ ধরনের আচরণ অন্যায়। কলেজ কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে বিএনপি নেতা ফুরকান উল্লাহর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তারা আরও জানান- কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাছানুল ইসলাম কলেজে যোগদানের ২ মাসের মধ্যে কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। শিক্ষক-শিক্ষর্থীর শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিয়মিত পাঠদানসহ কলেজের উন্নয়ন কর্মকান্ড ত্বরান্বিত হচ্ছে। এমন সময় কলেজ অধ্যক্ষের সাথে এ ধরনের আচরণ পুরো রামুবাসীকে হতাশ করেছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: রামু
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন