শায়েস্তা খাঁর এক টাকা আর কাঁচামরিচের ১২০০ টাকা

fec-image

জিনিসপত্রের দাম সস্তার জন্য কিংবদন্তি হয়ে আছেন শায়েস্তা খাঁ। মুঘল আমলে বাংলার একজন বিখ্যাত সুবেদার বা প্রাদেশিক শাসক ছিলেন তিনি। দুই দফায় ২২ বছর তিনি বাংলা শাসন করেন। প্রথমে ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ সাল এবং দ্বিতীয়বার ১৬৮০ থেকে ১৬৮৮ সাল। বলা হয়, তাঁর শাসনামলে ঢাকার ব্যাপক উন্নতি হয়।

শায়েস্তা খাঁ এখনকার মানুষের কাছে বেশি বিখ্যাত আছেন একটি বিষয়ের জন্য—তাঁর শাসনামলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত।

যখনই কোনো নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়, তখনই আমরা সেই শায়েস্তা খাঁর আমলের কথা বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি। পেঁয়াজের কেজি আড়াই টাকা, আর টাকায় কিনা আট মণ চাল! ভাবা যায়? এখন তো এক টাকারই অস্তিত্ব নেই বললে চলে। আসলেই কি শায়েস্তা খাঁর আমলে মানুষ এত সস্তায় চাল কিনতে পারত?

এবার তাহলে ঐতিহাসিকদের কাছে যাই। তাঁরা দেখিয়েছেন, শায়েস্তা খাঁর আমলে ওই এক টাকা আয় করাই ছিল অত্যন্ত কঠিন। তখন বাংলার মানুষ ছিল অত্যন্ত গরিব। সে সময়ের অর্থনীতিকে বলা হতো খোরাকি অর্থনীতি। অর্থাৎ ফসল ভালো হলে সবাই দুই বেলা খেতে পারত, ফসল ভালো না হলে পরবর্তী ফসল না হওয়া পর্যন্ত প্রায় উপোস।

আবার এমনও হয়েছে, কোনো কোনো সময়ে এত বেশি ফলন হতো যে চাহিদা কমে ধানের দামের ভয়াবহ পতন হতো। এতে কৃষকের কোনো লাভ হতো না, তখন টাকায় আট, এমনকি নয় মণ চালও পাওয়া যেত। এমনও হয়েছে, কৃষকেরা মাঠ থেকে ফসল তুলতেনই না। কারণ, ধান তোলার খরচই উঠত না। সুতরাং টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত ঠিকই, কিন্তু সেটা প্রাচুর্যের লক্ষণ ছিল না। খুব কম মানুষেরই সে সময়ে এক টাকা থাকত।

শায়েস্তা খাঁর আমলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়ার কথা যেমন সত্যি, তেমনি সামান্য কিছু মানুষের হাতে টাকা ছিল, এটাও সত্যি। তবে মানুষ মনে রেখেছে প্রথমটাই। শায়েস্তা খাঁ নিজেও হয়তো জানতেন এমনটাই হবে। আর তাই ঢাকা ত্যাগ করার সময় তিনি নগরীর পশ্চিম তোরণে নিম্নলিখিত লিপিটি উৎকীর্ণ করিয়েছিলেন: ‘শস্যের এ ধরনের সস্তা বিক্রয়মূল্য প্রদর্শনকারীই একমাত্র এ তোরণ উন্মুক্ত করবে’।

আর ২০২৩ সালে আমরা বাজারে দব্যমূল্য কী দেখতে পাচ্ছি?

কাঁচা মরিচের ঝাঁজে দিশেহারা ক্রেতারা। দাম বেড়েছে রান্নার এই জিনিসের। খুলনায় প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়। জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। সবকিছুর দাম ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজারে সবজি, ডিম, মাছ, মাংস, পেয়াজ, আদাসহ প্রত্যেকটা দ্রব্যের অস্বাভাবিক দাম। তবে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে কাঁচামরিচের দাম। দুই যুগের তুলনা করলে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, আকাশ-পাতাল পার্থক্য দুই যুগের জিনিসপত্রের বাজারদরের।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন