৩০এপ্রিল মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি

Rangamati fish man pic-01

স্টাফ রিপোর্টার, রাঙামাটি :
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলধারা ও বাংলাদেশের প্রধান মৎস্য উৎপাদন ক্ষেত্র কাপ্তাই হ্রদে মাছধরা ও পোনামাছ নিধন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) ও রাঙামাটি জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এ ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু ও প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশ বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বাড়াতে চলতি মৌসুমে অনির্দিষ্ট কালের জন্য সবধরণের মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ঘোষণা করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামাল।

আগামী ৩০এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা ১মিঃ থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত  হ্রদে সবধরণের মাছ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। । পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে জানা গেছে। সোমবার বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্র কমান্ডার (সি) বিএন ব্যবস্থাপক মো. মাইনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এব্যাপারে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামাল জানান, রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের মাছের উপর নির্ভর করে বছরে শতকোটি টাকার ব্যবসা হয়। এতে করে সরকার নাম মাত্র রাজস্ব পেলেও বেশীরভাগ লাভবান হয় সাধারন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তাই কাপ্তাই লেকে মৎস্য প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর মাত্র ৩মাসের জন্য কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

তিনি আরো বলেন, কাপ্তাই হ্রদে রুলকার্ভ অনুসারে ৮২.৮ ফুট পানি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ৭৮.৪ফুট। যা পরিমানের চেয়ে প্রায় ৪.৪ ফুট কম। এ অবস্থায় অব্যাহতভাবে হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় স্বার্থে মাছ শিকার বন্ধ করা হয়েছে। হ্রদে অবমুক্ত পোনা সংরক্ষণ এবং মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও বংশ বৃদ্ধিসহ মাছ শিকার ও পাচার রোধে জেলাজুড়ে সতর্কাবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ পরিচালনা বিষয়ক কমিটির সূত্রে জানা গেছে, মাছ ধরা বন্ধ মৌসুমে হ্রদের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার পাশাপাশি আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা নেয়ার সিদ্ধান্ত  নেয়া হয়েছে। তাছাড়া বিগত বছর গুলোর ন্যায় এবছর ও মাছ ধরা বন্ধকালীন সময় কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ৩০ টন কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে । কাপ্তাই হ্রদের ৬টি মৎস্য অভয়াশ্রমের পাশাপাশি হ্রদের বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে এসব পোনা অবমুক্ত করা হবে।

এছাড়া মাছের উৎপাদন বাড়াতে বছরের সব ঋতু ও মৌসুমে ৯ ইঞ্চি সাইজের পর্যন্ত পোনামাছ শিকার নিষিদ্ধ রয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন বাড়াতে চলতি ডিম ছাড়ার মৌসুমে সুষ্ঠু প্রজনন ও বংশ বৃদ্ধির স্বার্থে মাছধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি এ বছর হ্রদ এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্পজাতীয় মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়া হবে। এসব পোনা পর্যায়ক্রমে ডিসিবাংলো, শহীদ মিনার চত্ত্বর, লংগদু ও বরকলের অবতরণ কেন্দ্রে ছাড়া হবে বলে সূত্রে জানা যায়।  

জানা গেছে, রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ এলাকায় অবাধে মা মাছ নিধনের কারণে ২০-২৫ বছর আগেই মাছের সুষ্ঠু প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হয়ে পড়ে। সেজন্য হ্রদে মাছের উৎপাদন বাড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যাপ্ত পোনা অবমুক্তি করা হবে। এসব পোনা নিধন এবং বন্ধকালীন সময়ে হ্রদে সবধরণের মাছ শিকার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাছাড়া এ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। #

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন